বর্ষবরণে কালবৈশাখীর হানা

নিজস্ব সংবাদদাতা : বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণে হানা দিয়েছে কালবৈশাখী। নববর্ষের শেষ বিকালের আনন্দ অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে ঝড়োবৃষ্টি।

সকাল থেকে রোদেলা আবহাওয়া থাকলেও বিকাল চারটার পর আকাশ ঢেকে যায় কালো মেঘে। এক সময় শুরু হয় ভারী বৃষ্টি, সঙ্গে ঝড়োহাওয়া। কোথাও কোথাও হয়েছে শিলাবৃষ্টিও।

হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পয়লা বৈশাখে ঘুরতে এসে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। রাজধানীর রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিকালে মানুষের ঢল নামে। বৃষ্টি শুরু হলে তারা বিভিন্ন স্থাপনায় গিয়ে আশ্রয় নেন।

সপরিবারে পয়লা বৈশাখে ঘুরতে এসেছেন ব্যবসায়ী আসলাম রহমান। বৃষ্টিতে চারুকলায় আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।  আসলাম বলেন, ‘বছরে প্রথম বৃষ্টি, সারাদিন ভালো গেল। ভালো আকাশ দেখে বের হলাম, আর বৃষ্টি শুরু হলো। নববর্ষের আনন্দটাই মাটি হয়ে গেল।’


আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখন প্রি মুনসুন টাইম চলছে। যেকোনো সময় কালবৈশাখী শুরু হতে পারে। আজকে হঠাৎ কিশোরগঞ্জে সেলফ ডেভেলপ হয়, ওটাই নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে ঢাকায় বৃষ্টি ঝাড়ছে। এটা স্বাভাবিক অবস্থা, এ সময় এমনটা হতে পারে।’

নববর্ষ উপলক্ষে নগরীর পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র থেকে শুরু করে, হোটেল-রেস্টুরেন্ট সর্বত্র নানা আয়োজন ছিল। বৃষ্টি আসার আগ অবধি মানুষ প্রাণ ভরে উপভোগ করেছে মেলা, গান, পুতুল নাচ, দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানোসহ নানা আয়োজন। দেদারসে কেনাকাটা চলেছে বৈশাখী মেলায়।


রাজধানীতেই শতাধিক স্থানে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান চলার খবর পাওয়া গেছে। ভোরে রমনা বটমূলে সুরের মূর্চ্ছনায় নতুন সূর্যকে আবাহনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর এসকঙ্গে সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের বর্ষবরণে নেয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা।

Inline
Inline