বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ১ হাজার টন চাল ও ২ কোটি টাকা নগদ রাখা হয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী

ঢাকা, ১০ জুলাই, ২০১৮ : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেছেন, বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে এক হাজার টন চাল ও দুই কোটি টাকা নগদ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক প্রয়োজন মনে করলে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পাঠিয়ে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘এছাড়া প্রত্যেক জেলায় ১৫০-২০০ টন চাল মজুদ রয়েছে এবং তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা হাতে রয়েছে। বন্যার সময় ও বন্যার পরবর্তী সময়ে যাতে মানুষের কষ্ট না হয়।’
ত্রাণমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলীর (এসওডি) হালনাগাদকৃত খসড়া এবং বন্যা পরিস্থিতির পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, এছাড়া আরও ৩৫টি জেলায় ৭৫ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট আমরা ইতোমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছি। এই জেলাগুলোতে শুকনো খাবার এজন্য দিয়েছি যে এই জায়গায় বন্যা হতে পারে। এজন্য আগাম শুকনো খাবার রেখেছি।
সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টিতে দেশের নয়টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে জানিয়ে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, আমরা বন্যার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। নয়টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। এরমধ্যে মৌলভীবাজার ও নীলফামারী জেলা বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে’। বাকি সাত জেলা হচ্ছে- কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, সিলেট ও সুনামগঞ্জ।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী বলেন, গত ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৬৪টি জেলায় এক কোটি ১২ লাখ টাকা ও সাড়ে ৫ হাজার টন জিআর চাল দেয়া হয়েছে। বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে তা মেরামত ও তৈরি করার জন্য ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের কাছে ৫০ হাজার বান্ডিল টিন ও ১৫ কোটি টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। যাতে বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে যেখানে ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে সেগুলো মেরামত করা যায়।
ঝড়-বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম ২৫ থেকে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ইতোপূর্বে তা চিহ্নিত করে আরেকটি নিরাপদ জায়গায় তাদের সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পরিবার নিরাপদ জায়গায় চলে গেছে। আর যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে আশা করি তাদের সরিয়ে নিতে সক্ষম হবো।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।