বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষ গৃহহারা ও না খেয়ে থাকবে না : গোবিন্দগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী

গাইবান্ধা থেকে, আঃ খালেক মন্ডল : বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের পাশে সরকার আছে। যারা গৃহহীন হয়েছে তাদেরকে ঘর তৈরী করে দেয়া হবে। সেই সাথে যাদের বাড়ী ঘর বন্যায় নদী ভেঙ্গে নিয়েছে। তাদেরকে খাস জমি দেয়া হবে এবং প্রয়োজনে বাড়ী ঘর করার জন্য জমি ক্রয় করে দেয়া হবে। বন্যাদুর্গত এলাকাসহ একটা মানুষও দেশে গৃহহীন থাকবে না। সেই সঙ্গে আগামী ফসল না উঠা পর্যন্ত সরকার বন্যার্তদের সাহায্য দিয়ে যাবে। যে সব কৃষক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নতুন করে জমিতে ফসল ফলানোর জন্য ধানের চারা দেয়া হচ্ছে এবং নতুন করে বীজতলা তৈয়ারী করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ফসল উৎপাদনের জন্য জমির সার দেয়া হচ্ছে। বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের ঈদগাহ মাঠে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ ও ধানের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন তিনি। এর আগে সকাল ১০ টার পর গাইবান্ধা মোড় বোয়ালিয়া হ্যালিপ্যাডে হেলিকপ্টারে করে তিনি অবতরণ করেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে বন্যা দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষ কষ্ট পেয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে আমি দিনাজপুর এবং কুড়িগ্রামে গিয়ে ছিলাম তাদের পাশে এ সরকার দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন বিএনপি জামায়াত জোট ২০১৩ সাল থেকে মানুষ পুড়ে মারছে। ২০১৪ সালে বিএনপি জামায়াত জোট ভোটে না এসে তারা প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশসহ সাধারণ মানুষকে আগুণে পুড়ে মারছে। গাইবান্ধা জেলাতেও বিএনপি জামায়াত নৈরাজ্য চালিয়ে পুলিশ বাসে আগুন দিয়ে মানুষ মারছে। এমনকি সুন্দরগঞ্জের লিটনকে মারা হয়েছে। এরা মানুষ হত্যা, মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী আরো বলেন বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ঘাট সংস্কার করা হবে। ইতি মধ্যেই সড়ক মন্ত্রীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা জানতাম আগাম বন্যার পূর্বাভাসে দেশে বন্যা হবে। শেখ হাসিনা বলেন বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করা হয়েছে। যাতে দেশের মানুষ কোন কষ্ট বা খাদ্য সংকটে না পড়ে। দেশে পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্য মজুদ আছে। আপনারা বানভাসী মানুষ কোন চিন্তা করবেন না আওয়ামীলীগ, বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ সবাই ত্রাণ দিচ্ছে। জাতির পিতা এ দেশ স্বাধীন করে দিয়েছেন আমরাও গৃহহারা মানুষের ঘরবাড়ী নির্মান করে দিচ্ছি। এসময় তিনি আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, আমি বাবা, মাসহ পরিবারের ১৮ জনকে হারিয়েছে। আমি আর আমার বোন বিদেশে থাকায় বেঁচে গিয়েছি। আমার আর হারাবার কিছু নেই। আমার বাবা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমি আমার দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। প্রয়োজনে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জীবন দেব। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যারা কৃষি ঋণ নিয়েছেন এনজিও থেকে সাপ্তাহিক লোন নিয়েছেন সেই সব এনজিও ব্যাংকের প্রতি আমার নির্দেশ কিস্তি তোলার নামে বন্যার্ত মানুষের হয়রানী করবেন না। ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা দরে চাল দিচ্ছি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীগ ক্ষমতায় এসে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় ছেলে-মেয়েদের বৃত্তি চালু করেছে। বন্যায় যাদের বই খাতা, কলম নষ্ট হয়েছে। তাদের হাতে বই, খাতা, কলম তুলে দেয়া হবে। যে সব স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা সংস্কারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার অধ্যায়নরত ছেলে-মেয়ের অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করছি। আপনার খোঁজ নিবেন আপনার ছেলে-মেয়ে লেখাপড়ার পাশা-পাশি কি করছে। সেই সাথে শিক্ষক, মসজিদের ঈমামের প্রতি আমার নির্দ্দেশ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হউন। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি’র পরিচালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্য মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, গোবিন্দগঞ্জের এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল। এ ছাড়া অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ গাইবান্ধা সদর আসনের এমপি মাহবুব আরা বেগম গিনি, সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি গোলাম মোস্তফা, পলাশবাড়ী-সাদুল্ল্যাপুর আসনের এমপি ডা. ইউনুছ আলী সরকার সংরক্ষিত আসনের এমপি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্বৃতি ও গোবিন্দগঞ্জের সাবেক সংসদ প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চেীধুরী। অনুষ্ঠানের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বন্যাদুর্গত ৩ হাজার মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত ১ শ’জন কৃষকের মাঝে ত্রাণ ও ধানের বীজ বিতরণ উদ্বোধন করে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধী সমাজ ও বন্যা ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ঠ সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় সভায় মিলিত হন। এর পর নামাজ ও মধ্যাহৃ বিরতি দিয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দির উদ্যেশে রওনা দেন।