বটিয়াঘাটায় সংখ্যালঘু পরিবারের ওয়ারেশ ও খরিদাসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি দখলচেষ্টার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক : খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানাধীন বৃত্তি খলসিবুনিয়া মৌজার সংখ্যালঘু সত্যচরন রায় পরিবারের পৈতৃকসূত্রে ও খরিদাসূত্রে অর্জিত সম্পত্তি বিবাদী প্রশান্ত কুমার রায় ও তপন কুমার রায় গং অবৈধভাবে ভোগ দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ এসেছে। যদিও এ ব্যাপারে গত ১/১২/২০১৫ ইং তারিখে বটিয়াঘাটা সহকারী জজ আদালতে বাদী সত্যচরন রায় ও গোবিন্দ মন্ডল একটি মামলা করেন, যার নং ২৬১/১৫।
মামলার বিবরনে জানা যায়, জেলার বটিয়াঘাটা থানার অন্তর্গত বৃত্তি খলসিবুনিয়া মৌজার মধ্যে সাবেক খতিয়ান নং ২৩ মোতাবেক এস,এ খতিয়ান নং ৭৫ ও ৭৬ যার বি,আর,এস খতিয়ান নং ১৩ উক্ত খতিয়ানে মোট ১.৮৭ একর সম্পত্তির মধ্য হতে .৯৫৭৫ একর সম্পত্তি বাদীপক্ষের দাবীকৃত নালিশী সম্পত্তি। বিবাদীদের পিতা অনিল কুমার বৈষয়িক জ্ঞানসম্পন্ন বলে বাদী সত্যচরন রায় তাকে দায়িত্ব দেন জমি রেকর্ডভুক্ত করার জন্য। কিন্তু অনিল কুমার রায় বিশ্বাসভঙ্গ করে আর,এস ১৩ নং খতিয়ানে নিজ নামে তার প্রাপ্য অংশের অধিক সম্পত্তি রেকর্ড করে রাখেন। যদিও মামলার বাদী সত্য চরন রায় এস,এ ৭৬ খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক এবং নিজ খরিদা অংশ ও লক্ষ্মীরাণীর অংশে মোট .৯৫৭৫ একর সম্পত্তির মালিক। অনিল কুমার রায় ২৫/০৯/৯৩ ইং তারিখের ২০২৯ নং ঘোষনাপত্র দলিলখানি সেটেলমেন্টের সময় রেকর্ড করার কথা বলে তিনি তার কাছে রাখেন। কিন্তু অদ্যাবধি মূল ঘোষনাপত্র বা তার কোন ফটোকপিও লক্ষ্মীরানী বা বাদীকে ফেরৎ দেন নাই। অনিল কুমার রায়ের মৃত্যুর পর তার ওয়ারেশ প্রশান্ত কুমার রায় ও তপন কুমার রায় বিষয়টি অবগত হয়ে গত ২৩/০৮/২০১৫ ইং তারিখ একটি শালিসী বৈঠকে প্রশান্ত কুমার রায় রেকর্ডের ভুলের কথা স্বীকার করেন এবং রেকর্ড সংশোধনের ব্যাপারে যাবতীয় সহযোগীতা করার অঙ্গীকার করেন। উক্ত সভায় আর,এস ১৬১ দাগে গোবিন্দ কুমার রায়ের খরিদ করা .২৫ একর সম্পত্তির উপর প্রশান্ত কুমার রায় যে আপত্তি তুলেছেন তা প্রত্যাহার করে নিবেন এবং তখন থেকে গোবিন্দ কুমার রায় ভোগ দখল করবেন। উক্ত শালিসী বৈঠকে এসকল কথা ও অঙ্গীকার উল্লেখপূর্বক একটি আপোষনামা লেখা হয় যেখানে প্রশান্ত কুমার রায় ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতির তথ্য ও স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু তারা দুই ভাই এ সকল অঙ্গীকার পরবর্তীতে অস্বীকার করেন। অথচ বাদী পক্ষের লোকজনের চেয়ে বাবাদীগন বেশী শিক্ষিত এবং সম্পদশালী। মামলার ১নং বিবাদী প্রশান্ত কুমার রায় একটি বিদ্যালয়ে চাকুরী করতেন বর্তমানে অবসরে আছেন আর ২নং বিবাদী তপন কুমার রায় খলসিবুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে চাকুরীরত।
বিবাদীপক্ষ প্রতিনিয়ত বাদীপক্ষদের জমি দখলের হুমকি দিয়ে আসছে বলে বাদীপক্ষ অভিযোগ তুলেছেন। বাদীগনের অভিযোগ বটিয়াঘাটা থানা থেকে তাদের উভয়কে নালিশী সম্পত্তি দুই ভাগ করে অর্ধেক অর্ধেক ভোগ দখল করতে বলেছেন।
কিন্তু বাদীগনের অভিযোগ, কোন বুনিয়াদে বিবাদীগন নালিশী সম্পত্তি ভোগ করবেন। কোন বুনিয়াদে বিবাদীগন এ সম্পত্তি তাদের নামে রেকর্ড করেছেন? কোন সূত্রে বিবাদীগন এ নালিশী সম্পত্তির ভোগদার হবেন? কেনইবা বাদী বিবাদী উভয়ে অর্ধেক অর্ধেক ভাগ করে সম্পত্তি ভোগ দখল করবেন?
বিষয়টির ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষন করা যাচ্ছে। আমরা চাইনা কেউ ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হোক। আদালতে মামলা চলছে, আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষ ধৈর্য্য ধারন করে পূর্বেকার অবস্থায় থেকে ভোগ দখলে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞ মহল।