বঙ্গবীরের এলাকায় আ.লীগে প্রার্থী ছড়াছড়ি, বিএনপিতে আজম

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের বাসাইল ও সখীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৮ আসনে দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও এক বড় শক্তি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও কাদের সিদ্দিকীর নির্বাচনী ভোটযুদ্ধ যে জমবে এ কথা আগে থেকেই বলে দেয়া যায়।

নির্বাচন ঘিরে সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ করছেন বেশ আগে থেকে। বড় দুই দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার ও লিফলেট সেঁটে জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। আর তৃণমূল নেতাদের সমর্থন ও কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পেতে লবিং চালাচ্ছেন একাধিক নেতা।

তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে শক্তিশালী প্রার্থী থাকলেও দলীয় মনোনয়নের জন্য ক্ষমতাসীন দলটিতেই দৌড়ঝাঁপ বেশি। এই দলে অন্তত আটজন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে নেমেছেন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে। তাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন মনোনয়ন দৌড়ে কেহ কারে নাহি ছাড়বে। ফলে একক প্রার্থী নির্বাচনে বেগ পেতে হবে আওয়ামী লীগকে। তাই এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কারো প্রায় নিশ্চিত সম্ভাবনা আঁচ করা কঠিন। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে তা অতটা নয়।

টাঙ্গাইল-৮ আসনের বর্তমান এমপি অনুপম শাহজাহান জয় এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তার পক্ষে নেতাকর্মীরা নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও অন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। আওয়ামী লীগে অন্য মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (জোয়াহের), বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক জিএম ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল মালেক মিয়া, সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শওকত সিকদার, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম আসাদুল হক তালুকদার, ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ, সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদ, আওয়ামী লীগ নেতা সরকার মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ফারুক। তারা সবাই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে অনেকটা এগিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান। কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগোযোগ আর নানা মাধ্যমে উপস্থিতির কারণে দ্রুতই পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে একেবারে বিনা যুদ্ধে মনোনয়ন পেয়ে যাবেন তা নয়। তাকে লড়তে হবে সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবিব ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ওবায়দুল হক নাসিরের সঙ্গে। এই দুজনও নির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ-বিএনপির তুলনায় অতি ছোট দল হলেও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী অন্য আর সবার চেয়ে বেশি পরিচিত মুখ। এখানকার সাবেক সংসদ সদস্য তিনি। নিজের বিপুল পরিচিতি নিয়ে বসে নেই মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবীর খেতাব পাওয়া এই নেতা। নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন অন্যদের সমানতালে। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি এখন ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী থেকে পারেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আশরাফ সিদ্দিকী।