বঙ্গবন্ধুর অখন্ডিত সংবিধানকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবী : ৭১’র ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি খুলনা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভায় বঙ্গবন্ধুর অখন্ডিত সংবিধানকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবী।
বঙ্গবন্ধুর অখন্ডিত সংবিধানকে ( ৭২ এর সংবিধান)ফিরিয়ে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চারনীতি বাস্তবায়িত হলে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারতো না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর শাসকগোষ্ঠীরা সবসময় জঙ্গীবাদের সমস্যা নিজেদের রাজনৈতিক হীন স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে এবং সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে একে প্রশ্রয় দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যত শক্তি ক্ষমতায় এসেছে, শুরু থেকে আজ অবধি, তাদের সবাই ধর্মীয় শক্তির সাথে আপোষ করেছে। আন্দোলন ঠেকানোর জন্য, মানুষকে ধোকা দেয়ার জন্য তারা ধর্মীয় শক্তির প্রসার ঘটিয়েছে, তাদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে। নিজেদের গণবিরোধী শাসন আড়াল করতে ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করেছে, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে মদত দিয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়েছে। জনগণকে দমন করার জন্য বুর্জোয়ারা যাদের সৃষ্টি করেছে, যাদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে- তারা ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠার পর নিজেরাই আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। এরা আন্তর্জাতিকভাবে যে সকল জঙ্গীরা আছে তাদের সাথেও সংযোগ স্থাপন করেছে। অথচ এদেশের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ছিল ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে ধর্ম হবে কোনো মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ব্যাপার, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। কিন্তু তাকে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গায় না রেখে ক্রমাগত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হতে থাকলে তার মধ্যে উগ্রতা তৈরি হতে বাধ্য। কারণ রাষ্ট্র যদি কোনো ধর্মের পৃষ্ঠপোষণ করে তবে তার যে রাজনৈতিক -সামাজিক -সাংস্কৃতিক প্রভাব তৈরি হয়, সেটা রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা হস্তগত করার স্পর্ধা না দেখিয়ে পারে না। এভাবে বললেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভায় বক্তারা।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে বিএমএ ভবনে বঙ্গবন্ধু হত্যা: সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের উত্থান- শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন। মূখ্য আলোচক ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতা হুমায়ুন কবির ববি ও এস এ টিভির ব্যুরো প্রধান সুনীল দাস। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের মহানগর কমিটির কৃষি সম্পাদক শ্যামল সিংহ রায়, সিপিবির মহানগর কমিটির সভাপতি এইচ এম শাহাদৎ, জাসদ এর সভাপতি রফিকুল হক খোকন, ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমন্ডলী সদস্য মফিদুল ইসলাম, ন্যাপের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়, জাতীয় পার্টি -জেপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, শেখ ইলিয়াস, প্রভাষক আহসান হাবিব, বিএমএ’র ডাঃ সোহানা সেলিম, নান্দিক একাডেমীর জেসমিন জামান, নূরুন নাহার হীরা, সেচ্ছাসেবকলীগের এস এম আজিজুর রহমান রাসেল, বাহালুল আলম, উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, লুটেরা মৌলবাদীরা সরকারের মধ্যে লুকিয়ে আছে। তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। ৭১ এর পরাজিত শক্তিরা সরকারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।