বগুড়া’য় মৃৎশিল্প কারিগর’রা এখন ব্যস্ত সময় কাঁটাচ্ছেন

আল আমিন মন্ডল,(বগুড়া ) থেকে : শনিবার পয়লা শুভ নববর্ষ। গ্রাম বাংলার পল্লী এলাকায় বসবে পয়লা বৈশাখী মেলা। ছোট বড় সবাই কিনবে হস্তশিল্প ও মাটির তৈরী জিনিসপত্র। এমনি আশায় বুকবেঁধে প্রতিদিন মাটি দিয়ে তৈরী করছে হরেক রকমের জিনিসপত্র। ফলে মৃৎশিল্প ‘কারিগর’রা এখন ব্যস্ত সময় কাঁটাচ্ছেন। নববর্ষ উৎসব উপলক্ষে তাঁরা মাটি দিয়ে তৈরী করছে পান্তা ভাত খাওয়া’র জন্য মাটির প্লেট ও বাটি। বেশী ভাগ শিল্পী এখন মাটির তৈরী জিনিসপত্রে রং লাগাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।
জানাযায়, মৃৎশিল্পে’র ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে দূীর্ঘদিন হলে বগুড়ার গাবতলী সোনারায়ের বামুনিয়া পালপাড়া গ্রামের ৫শতাধিক লোক এখনও মৃৎশিল্পের কাজ করে আসছে। এবছরে বাংলা নববর্ষের মেলা উপলক্ষে তাঁরা মাটির তৈরী প্লেট, খেলনা, হাতি, ঘোঁড়া, বাঘ, মাছ, আম, কাঁঠাল, পুতুল, ব্যাংক, খুটি ও মালসা তৈরী করছে। প্রথমে মাটি ছেনে হাত বা মেশিন দিয়ে তৈরী করা হয় এসব মাটির তৈরী জিনিসপত্র। এরপর রোঁদে শুকানোর পর রং লাগিয়ে পোড়া দিয়ে বাজারে অথবা মেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। মৃৎশিল্পকে ধরে রাখতে ৫শতাধিক লোক এখনো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। স্বচ্ছলভাবে জীবন না কাটলেও বাপ-দাদার শিল্পকে ধরে রাখতে তাদের প্রচেষ্টার জেন অন্তনেই। তবুও তাঁরা দিনরাত কাজ করছেন। তৈরী করছেন মাটির জিনিসপত্র। মৃৎশিল্প কারিগর শুশিল কুমার জানান, আমাদের ‘পালপাড়া গ্রাম’ যেন মৃৎশিল্পের শহর। মৃৎশিল্প কারিগর সাঁধন ও রতন জানান, এখন এই শিল্প মুখ থুবরে পড়েছে। মৃৎশিল্প এক সময় লাভবান শিল্প হিসেবে গন্য করা হত। এখন লাভ নেই, অমূল্য ও পরেশ জানান, আর্থিক সংকট থাকলেও আমরা এ শিল্পকে ধরে রাখবো। নারী শিল্পী প্রমিলা, কান্তিবালা ও লক্ষী জানান, দিনরাঁত পরিশ্রম করে আমরা মাটির দিয়ে জিনিসপত্র তৈরী করছি। এ যেন আমাদের জীবন সংগ্রাম। তবুও বাংলা নববর্ষ’সহ বেশ কিছু উৎসবে মেলা বসলে’ই মাটির জিনিসপত্রের কদর বেশ বেড়ে যায়। সে সময়ে আমাদের জিনিসপত্র বিক্রি বেড়ে যায়। তখন দামটা ভাল পাওয়া যায় মনটাও ভাল থাকে। আশাকরছি এবারের বাংলা নববর্ষ উৎসবের দিবস (দিন) ভাল কাঁটবে।

Inline
Inline