বগুড়ায় আউশের বাম্পার ফলন

বগুড়া, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ : জেলায় বছর বছর আউশ চাষ বাড়ছে। এ বছর আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে। আউশে সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার ফলে আউশ চাষে কৃষকরা উৎসাহিত হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে।

এ বছর জেলায় আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৫শ’’ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছিল (চাল আকারে) ৫৪ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার জানান, জেলায় এবার আউশ ধান চাষ হয়েছে ২৬ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে। এখন আউশ ধান কাটার পর তা হাটে বাজারে বিক্রি শুরু হচ্ছে।

জেলার কৃষি কর্মকর্তার বলেছেন, চালের সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকার প্রণোদনা দিয়ে আউশ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। আমন ও আউশের মাঝামাষি সময়ে জমি পতিত থাকে। জমি যাতে পতিত না থাকে এবং চালের সরবরাহ ঠিক রাখতে এ পরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার। আউশ চাষের ফলে উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা বিদায় নিয়েছে। কৃষকদেরও আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে।

ইতোমধ্যে আউশ ধান-চাল বাজারে উঠতে শুরু করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায় , হাটে আউশ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে সাড়ে ৮শ’ ৫০ টাকা মণ। বিঘা প্রতি আউশ চাষ করতে খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। তাতে তাদের মণ প্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে ৬১৫ টাকা। কৃষকরা ধান পেয়েছে বিঘা প্রতি ১৩ মণ। কৃষি বিভাগ আরও জানায়, ধানে তারা মণ প্রতি ২হাজার টাকা লাভ করবে। এ ছাড়া বিঘায় খড় বিক্রি করবে ২ হাজার টাকা।

এদিকে জেলায় আউশ চাষের জন্য সরকারের নিকট থেকে প্রণোদনা পেয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। সরকারি প্রণোদনা পেয়ে কৃষকরা দারুন খুশি। আউশের জন্য ৬ হাজার ৬শ’ জনের মধ্যে বিঘা প্রতি প্রণোদনার মধ্যে রয়েছে( এক জন কৃষকের জন্য ১ বিঘায়) ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি। এছাড়া মোবাইলের ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সেচের জন্য ৫০০ টাকা , আগাছা পরিস্কারের জন্য ৫০০ টাকা ।

Inline
Inline