ফেসবুকে মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট দেয়ায় ব্রিটিশ যুবকের জেল

ডেস্ক রিপোর্ট : মুসলিম হত্যার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অপরাধে এক ব্রিটিশ যুবককে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সে দেশের আদালত।যুক্তরাজ্যের পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট ১৯৮৬-এর আওতায় ওই আদেশ দিয়েছে ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্ট।গত মে মাসে ম্যানচেস্টার অ্যারেনার কনসার্টে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মুসলিমবিদ্বেষী আহ্বান জানিয়েছিল ২২ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক কিগান জাকোভলেভস। এই তরুণ লিখেছিলেন, ‘চলো, প্রত্যেকটা মুসলিমকে হত্যা করি’।আদালতের শুনানির পর ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের (সিপিএস) বিশেষ অপরাধ ও সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের প্রধান সুয়ে হেমিং বলেন, ‘ম্যানচেস্টার হামলার পর ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অগণিত বার্তা পোস্ট করেছিল মানুষ। কিন্তু কিগান জাকোভলেভস ব্রিটিশ মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যার আহ্বান জানিয়ে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছে। তার এ কর্মকাণ্ডের কারণে যদিও কোনো ক্ষতিসাধন হয়নি, কিন্তু এখানে তার ইচ্ছেটা স্পষ্ট। সিপিএসের মামলার সম্মুখীন হওয়ার পর সে দোষী সাব্যস্ত হলো।’বিদ্বেষ ছড়ানোর ব্যাপারে লোকজনকে সতর্ক করে সুয়ে হেমিং আরও বলেন, ‘লোকজনের এটা ভাবা ঠিক নয় যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষ ও সহিংসতামূলক কিছু পোস্ট করে পার পাওয়া যাবে। প্রমাণ থাকলে সিপিএস তাদের বিচার করবে এবং কারাদণ্ড দেবে।’জোকোভলেভস ফেসবুকে বিদ্বেষমূলক পোস্টটি শেয়ার করার পরপরই তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে জোকোভলেসকে দোষী সাব্যস্ত করার পেছনে সিপিএস যুক্তি দেখিয়েছে, ওই পোস্টটি জোকোভলেসের অন্তত ২,১৫৪ ফেসবুক ফ্রেন্ডের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। পাশাপাশি অন্যদেরও কেউ কেউ তা দেখতে পেয়েছে।সিপিএসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সব মিলিয়ে জোকোভলেসের ওই বার্তাটি বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। মুসলিম কমিউনিটির যারা এ বার্তাটি দেখেছেন তাদের মাঝে নিশ্চিতভাবে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল এবং মারাত্মক ক্ষতি হতে পারতো।প্রসিকিউশনের যুক্তি হলো, ম্যানচেস্টারের ওই বোমা হামলার পরপরই জোকোভলেভস বার্তাটি পোস্ট করেছিল। সে সময় মানুষের আবেগ উচ্চ সীমায় ছিল, তখন জোকোভলেভসের এ বার্তাটিও মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছিল বলে দাবি তাদের।গত ২২ মে ম্যানচেস্টার অ্যারেনাতে সংগীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে বোমা বিস্ফোরণ করেছিল আত্মঘাতী হামলাকারী সালমান আবেদি। ওই হামলায় ২২ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়। পরে হামলার দায় স্বীকার করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস বলেছিল, সালমান তাদের সমর্থক।