ফরিদপুরে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফরিদপুর পৌরসভার আলীপুরের অম্বিকাপুর রেল কলোনির শতাধিক পরিবার গত এক মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে। দেশের ক্রমাগত ঘন বৃষ্টিপাতের ফলে তাদের জীবনে ডেকে এনেছে স্তব্ধতা।

এদিকে পানিবন্দি থাকার কারণে স্কুল যেতে পারছে না ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে এ এলাকার পরিবারগুলো। ঘরের মেঝেতে পানি উঠে যাওয়ায় রান্না করা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সকল কাজ করতে অবর্ণনীয় কষ্ট হচ্ছে তাদের। আবার রাতের অন্ধকারে সাপের ভয়ে ঘুমাতেও পারছে না পরিবারগুলো।

সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, অম্বিকাপুর রেল লাইনের পাশে নিচু এলাকায় বাস করছে শতাধিক পরিবার। গত এক মাস ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় এই নিচু এলাকায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন তারা। ঘরের চৌকি অবধি পানি উঠেছে তাদের বাড়িতে। রান্না করার কোন ব্যবস্থাও নেই। সকল পরিবার অন্যের বাড়িতে রান্না করে ঘরে নিয়ে আসছে অথবা দোকান থেকে চিড়া-মুড়ি কিংবা শুকনা খাবার কিনে খাচ্ছে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা ঘর থেকে বের হতে পারছে না স্কুলে যাবার জন্য। আবার ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে যাওয়ায় বই খাতাও ভিজে গেছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে এ এলাকার সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম। অনেকে পরিবার সন্তানদের তাদের নানা অথবা দাদা বাড়ি বা কোন আত্মীয়র বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানালেন, গত কয়েক বছর যাবৎ এই এলাকার মানুষ বৃষ্টি মৌসুমে পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ খান বলেন, প্রতি বছরই বৃষ্টি মৌসুমে পানিবন্দি থাকি। এ কয়েকমাসের জলাবদ্ধতায় আমাদের জীবনযাপন করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।

আরেক বাসিন্দা শেখ হাফেজ মোল্লা বলেন, বাড়িতে যেতে হলে কোমর পর্যন্ত পানির মধ্যে নেমে বাড়ি যেতে হয়। সব সময়ে আতঙ্কে থাকি এই বুঝি আমার বাচ্চা পানিতে পড়ে গেল।

পানিবন্দি আরেক পরিবার জানায়, বাচ্চাকে তারা তার নানা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন পানিতে ডুবে মরে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে। কিন্তু যাওয়ার জায়গা নেই বলে এখানকার বেশিরভাগ পরিবারই এখানে রয়ে গেছে স্কুলপড়ুয়া সন্তানের মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই।

এ বিষয়ে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খন্দকার সামসুল আরেফীন সাগর বলেন, গত বছরও এ এলাকার মানুষ পানিবন্দি ছিল। আমরা স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু এ এলাকার পানি বের করার কোন জায়গা নেই। বৃষ্টি কমলে আমরা পানি সেঁচের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতার নিরসন করব।

রেল কলোনির জলাবদ্ধতা দেখার জন্য শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসেন এনডিসি মো. পারভেজ মল্লিক। তিনি জানালেন, শতাধিক পরিবার এখনও পানিবন্দি রয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমি প্রকৃত অবস্থা দেখতে এসেছি। আজ অথবা কাল থেকে পানিবন্দী পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা দেয়া শুরু হবে। এছাড়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থানীয় পৌরসভার সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।