ফরিদপুরের গোপালপুর ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল

ফরিদপুর সংবাদদাতা : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর গোপালপুর ঘাটে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মজীবীরা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়ি ফিরছেন উপজেলার গোপালপুর ঘাট দিয়ে।

রাজধানী ঢাকা থেকে এ ঘাট দিয়ে অত্যন্ত সহজ ও স্বল্প সময়ে বাড়ি ফিরতে পেরে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন ঘরে ফেরা মানুষগুলো। এ ঘাট দিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে বৃহত্তর ফরিদপুরসহ মাগুরা, যশোর, ঝিনাইদহের হাজারো মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।

ঢাকা থেকে বাসযোগে দেড় ঘণ্টা সময়ের মধ্যে উপজেলা পদ্মা নদীর অপর পারে চর মৈনট ঘাটে নামার পর স্পিডবোটে মাত্র ২০ মিনিট সময়ের মধ্যে পৌঁছতে পারছেন উপজেলা সদরে। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও ঘরমূখো যাত্রীরা বেছে নিয়েছেন পদ্মা নদীর মৈনট টু গোপালপুর নৌরুট।

জানা যায়, আগামী শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় শবে-কদরের ছুটির দিন বুধবার থেকেই পেশাজীবীরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। ফলে বুধবার দুপুরের পর থেকে উপজেলা পদ্মা নদীর গোপালপুর ঘাটে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল নামে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঢাকা গুলিস্তান থেকে বাস যাত্রীরা দোহার উপজেলার কার্তিকপুর বাজার হয়ে সরাসরি চর মৈনট ঘাটে নেমে স্পিডবোট ও ট্রলারে পদ্মা পারাপার হয়ে গোপালঘুর ঘাটে নামছেন। স্পিডবোটগুলো যাত্রী বোঝাই হওয়া মাত্রই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে এবং উপজেলার গোপালপুর ঘাটে যাত্রী নামিয়ে খালি বোটগুলো মুহূর্তের মধ্যে ঈদ যাত্রী আনতে ফিরে যাচ্ছে মৈনট ঘাটে।

ঢাকা থেকে আসা ফজল মোল্লা জানান, ঢাকা থেকে চর মৈনট ঘাটে এসেছি। সেখান থেকে ১০ জন যাত্রী নিয়ে গোপালপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে বোট ছেড়ে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভাড়া যাই নিক, জীবনের দাম অনেক। এ বছর যে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই বোট চলাচল করছে না তাতেই আমরা আনন্দিত।

ঢাকা থেকে আসা অপর এক যাত্রী সালমা আক্তার, শাহিন আলমসহ আরও অনেকেই জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করছে না স্পিডবোটগুলো, তবে ঈদ উপলক্ষে যে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে তা অতিরিক্তি। ভাড়াটা একটু কম হলে ভালো হতো।

গোপালপুর টু মৈনট ঘাট ইজারাদার মোবারক হোসেন বলেন, ঈদযাত্রী বহনের জন্য পদ্মার দুই পাড়ে দুটি ঘাটে মোট ৩০টি স্পিডবোট ও ২০টি ট্রলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি ছোট স্পিডবোটে ১০ জন এবং বড় স্পিডবোটে ২০ জন করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। প্রতিটি বোটে যাত্রী নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উপজেলার গোপালপুর ঘাট থেকে যাত্রী শূন্য স্পিডবোটগুলো মুহূর্তের মধ্যে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে চর মৈনট ঘাটের ঈদ যাত্রী নিয়ে ফিরে আসছে বলে নির্ধারিত ভাড়ার সাথে মাত্র ৪০ টাকা যোগ করে জন প্রতি ২০০ টাকা ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার জানান, ঈদে ঘরমুখী মানুষের হয়রানি ও দুর্ভোগ লাঘবের জন্য গত দুই দিন আগে সভা করে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিধি বিধানগুলো রেজুলেশন করে সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আর সেভাবেই গোপালপুর টু মৈনট ঘাটে ঈদযাত্রী পারাপার হচ্ছে।