ফখরুল শঙ্কামুক্ত, হাসপাতাল ছাড়ছেন বুধবার

নিজস্ব সংবাদদাতা :  বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতাল ভর্তি হওয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হার্টে কোনো সমস্যা পাননি চিকিৎসকরা। তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন তারা।

সোমবার সকালে উত্তরার বাসায় বুকে ব্যথা অনুভব করায় বিএনপি মহাসচিবকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মোমিন উজ্জামানের তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলছে।

বিএনপি মহাসচিবের হার্টে কোনো সমস্যা আছে কি না তা জানতে তার এনজিওগ্রাম করা হয়। রিপোর্ট স্বাভাবিক আসায় বুধবার তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসক ওয়াজ শুভ  মঙ্গলবার সকালে বলেন, ‘মহাসচিব স্যারের এনজিওগ্রামে কোনো ধরনের সমস্যা পাওয়া যায়নি। তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন। আশা করি কাল সকালে তাকে রিলিজ দিতে পারব।’

হাসপাতালে ভর্তির আগে বুকে ব্যথা ছাড়াও ফখরুলের রক্তচাপ কমে গিয়েছিল। সেই সমস্যারও সমাধান হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিবের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন হাসপাতালে তার পাশে রয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। কারণ গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পর থেকে ফখরুলই দেশে বিএনপির দেখভাল করছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, সকালে এনজিওগ্রাম করতে নেয়ার আগে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না টেলিফোনে মহাসচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন।

এর আগে সোমবার বিকালে মির্জা ফখরুলকে দেখতে যান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

এছাড়াও গতকাল দিনভর মহাসচিবকে দেখতে হাসপাতালে যান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ প্রমুখ।

২০১৬ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় মির্জা ফখরুলের ঘাড়ে ক্যারোটিড আর্টারিতে ব্লক ধরা পড়ে। পরে তিনি কয়েক দফা যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা নেন।