ফকিরহাটে ধানের জমিতে পার্চিং উৎসব অনুষ্ঠিত

মান্না দে, ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন আবাদি জমিতে ক্ষতিকারক পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থার একটি অংশ হচ্ছে পার্চিং। উপজেলা কৃষি অধিদফতর থেকে কৃষকদের পার্চিং বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কারণে কৃষকরা এ পদ্ধতি ব্যবহারে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ পদ্ধতি ব্যবহারে কীটনাশক ব্যবহার কমে আসবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্লকে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাছরুল মিল্লাতের পরিচালনায় পার্চিং উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তিনি পার্চিংয়ের উপকারিতা সম্পর্কে স্থানীয় কৃষকদের অবহিত করেন এবং কৃষাণ-কৃষাণীরা জমিতে পাখি বসার জন্য বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে দেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ফসলে ক্ষতিকারক পোকা দমনে অনেক আগে থেকে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এতে যেমন অনেক উপকারী পোকা মারা যায়, তেমনি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ক্ষতির চিন্তা করেই পার্চিংয়ের মতো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এ পদ্ধতিতে জমির বিভিন্ন স্থানে পাখি বসার জন্য বিঘা প্রতি ১০-১২টি বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে দেয়া হয়। এসব ডালে বসে পাখি জমির পোকা খেয়ে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপকালে তারা জানিয়েছে, জমিতে পোকার আক্রমণ নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। এখন পার্চিং পদ্ধতিতে কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই পোকা দমন করা হরা হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নিজেরাই পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছি। এতে করে এক দিকে কীটনাশক সংক্রান্ত খরচ কম হচ্ছে, তেমনি ফসলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, মাজড়া পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, নলী মাছি, গল মাছি, চুঙ্গী পোকা এ ধরনের পোকা ফসলের জন্য খুব ক্ষতিকারক। ডালে বসে পাখিরা জমির এসব পোকা খায়। এতে পোকামাকড়ের জন্য বালাইনাশকের প্রয়োজন হয়না। কৃষকের অর্থনৈতিক সাশ্রয় হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার নাছরুল মিল্লাত জানান, পার্চিং একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি। ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধে কয়েক দফা জমিতে কীটনাশক প্রয়োগে কৃষকের ক্ষতি হয়। এছাড়াও পোকা, মাছ, পাখি, প্রাণী ও পতঙ্গ মারা যায় যেকারনে কীটনাশকের ব্যবহার কমে গেছে। পার্চিং পদ্ধতিতে পাখিই পোকা খেয়ে ফসল উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।

পার্চিং উৎসবকালে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।