ফকিরহাটে চাষীদের মাঝে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে

মান্না দে, ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : ফকিরহাটে শ্রমিকের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমন ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের মাঝে। টাউন নওয়াপাড়া এলাকার চাষীরা ট্রে পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের মাধ্যমে আমন ধান রোপণ করছে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে শেখের ডাঙ্গা এলাকায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করণের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ ধান রোপণ কর্মসূচি গত সোমবার প্রদর্শনের আয়োজন করেন। স্থানীয় চাষী শেখ আমিনুর রহমান মিলন ও শেখ আরবালি জানান, বোরো মৌসুমে শ্রমিকের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি আমন মৌসুমে পানি সাশ্রয়ী প্রল্পের মাধ্যমে কৃষি বিভাগের পরামর্শে ট্রে বা পলিথিন বেধে বীজ বপণ করা হয়। ১৪ দিন বয়সের চারা উৎপাদন করে এ মৌসুমে ৩ একর জমিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে চারা রোপণ করা হয়েছে। গত বোরো মৌসুমে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন, রোপণ ও কর্তন করে ৩ একর জমিতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত শ্রমিকের মুল্য সাশ্রয় হয়েছে। ফলে এ পদ্ধতিতে ধান উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে।
স্থানীয় কৃষক অঞ্জন ব্যানাজ্জী বলেন, “যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে চাষীরা আগ্রহ প্রকাশ করলেও মেশিনের সহজলভ্যতা না থাকায় সকল শ্রেনির কৃষক এ শুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।” পিলজংগ ইউপি চেয়ারম্যান খান শামিম জামান পলাশ বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে সীমিত সংক্ষক চাষী যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের সুযোগ পাচ্ছে। সকল চাষীদের জন্য এ সুযোগ পাওয়ার ব্যবস্থা করতে উর্দ্ধতন কমকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে এসএএও ডি. কৃষিবিদ বিপুল পাল বলেন, গত দু’বছর ধরে নওয়াপাড়া ব্লকে এ পদ্ধতিতে পানি সাশ্রয়ী প্রকল্পের মেশিন দিয়ে স্থানীয় চাষীদের চাষাবাদ সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এ পদ্ধতি অধিক লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় চাষীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে এ ব্লকে প্রায় ১০ একর জমিতে যান্ত্রিক পন্ধতিতে চাষাবাদ হবে।