ফকিরহাটে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে, অতিরিক্ত টাকা কর্তনের অভিযোগ

মান্না দে, ফকিরহাট থেকে : বাগেরহাটের ফকিরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া উপবৃত্তির টাকা সিওর ক্যাশে উত্তোলন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে উক্ত টাকা হতে ১০/২০টাকা কর্তন করা সহ নানান তালবাহানা করা হচ্ছে। এতে অভিভাবক ও শিক্ষাথীরা বিপাকে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহন না করা হলে সরকারের মহতী উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার আশংখা রয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। সংশ্লিস্ট সূত্র মতে, ফকিরহাট উপজেলার ৮০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০হাজার ৫জন শিক্ষাথীকে সরকারী উপবৃত্তির টাকা প্রদান করছেন। সে মোতাবেক শিক্ষাথীরা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একটি একাউন্ট খোলে। সেই একাউন্টে সিওর ক্যাশের মাধ্যমে শিক্ষাথীদের উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ সিওর ক্যাশ এজেন্ট ঘরে শিক্ষাথীদের নিকট হতে ১৫০/টাকায় ১০/টাকা এবং ৩০০/টাকায় ২০/টাকা টাকা কর্তন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর অতিরিক্ত টাকা না দিতে চাইলে শিক্ষাথীদের টাকা উত্তোলনে নানা অনিহা প্রকাশ করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের একাধিক অনিয়ম দুনীতি ও নানা ভোগান্তির অভিযোগ করেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারী নিয়মানুযায়ী টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে কোন কমিশন কর্তন করার নিয়ম এজেন্টদের নেই। অথচ অধিকাংশ সিওর ক্যাশ এজেন্টরা টাকা কেটে নিচ্ছেন। এব্যাপারে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক/শিক্ষিকার সাথে আলাপকালে তারা বলেন, এজেন্টের টাকা কেটে নেওয়ার কোন বিধান নেই। কারন তাদের কমিশনের টাকা সরকার বহন করেন। তার পরও সিওর ক্যাশ এজেন্টরা শিক্ষাথীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা কর্তন করে। অভিযোগ রয়েছে, ফকিরহাট সদর, লখপুর বাসস্ট্যান, লখপুর বাজার, টাউন নওয়াপাড়ার আমতলা, কাটাখালী বাসস্ট্যান্ড, মানসা বাজার, নলধা, মুলঘর, মৌভোগ সহ উপজেলা সদর ও বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত সিওর ক্যাশ এজেন্টের ঘরে উপরোক্ত টাকা কেটে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীনুর ইসলাম এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি অতিরিক্ত টাকা কর্তনের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। বিষয়টি তিনি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট অবগত করবেন বলে জানান।