ফকিন্নীর মাইয়া বাপের বাড়ীত থেইক্কা কি আনছস?

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিবাহের পরেও লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে এমন কথা থাকলেও বিবাহের পর স্বামী ও শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের কথার সূর পাল্টে যায়। লেখাপড়া আর করা যাবে না, ফকিন্নীর মাইয়া বাপের বাড়ীত থেইক্কা কি আনছস, বেইন্নার মাইয়া ইত্যাদি বাক্য ব্যবহার করে শ্বশুরবাড়ীর লোকজনেরা প্রতিনিয়ত টুম্পা রায়কে নির্যাতন করত। ওই মাইয়া তোর বাপেরে ক তরে যেন আইসা নিয়া যায়, এ কথা বলে সবসময় টুম্পাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত শ্বাশুড়ী। টুম্পা রায় বর্তমানে বাপের বাড়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আছে। কয়েকদিন আগে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন এসেছিল টুম্পাকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করে দিতে। এ যেন ছেলে খেলা।
শ্রীমতি টুম্পা রায়, পিতা: শ্রী স্বদেশ রায়, সাং- হুজুরাপুর সাহাপাড়া, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর সাথে গত বছর সনাতন ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে শ্রী রকি রায়, পিতা: শ্রী রসিক রায়, সাং- মধ্যপাড়া গোবিন্দগঞ্জ বন্দর, জেলা: গাইবান্ধা এর বিবাহ হয়। রকি রায় একজন ব্যবসায়ী। তার গোবিন্দগঞ্জে কাপড়ের দোকান আছে। বিবাহের পর টুম্পার শ্বশুরবাড়ীর লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে টুম্পার স্বামী কয়েকবার টুম্পাকে মারধর করে বলে টুম্পা জানায়। যৌতুকের জন্য টুম্পার কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, যদিও বিবাহের পূর্বে কথা ছিল টুম্পাকে লেখাপড়া করার সূযোগ দিবে। টুম্পার বাবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি চায়ের দোকান আছে। এ কথা ধরে প্রতিনিয়ত টুম্পার শ্বশুরবাড়ীর লোকজন বিশেষ করে তার শ্বাশুড়ী ফকিন্নীর মাইয়া বলে গালিগালাজ করে বলে টুম্পা জানায়। টুম্পা আই, এ ২য় বর্ষের টেস্ট পরীক্ষা দেয়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেতে চাইলে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন তাতে বাধ সাধে এবং এ নিয়ে তুমুল বাক বিতন্ডা হয়। পরবর্তীতে উকিল নোটিশ দেয় উভয় পক্ষ। এক পর্যায়ে টুম্পাকে তার শ্বশুরবাড়ীর লোকজন কিছু টাকা পয়সা দিয়ে বিদায় করে দিতে চায়। এ উপলক্ষে গাইবান্ধা থেকে রকি রায় লোকজন নিয়ে এসে টুম্পাকে কিছু টাকা দিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিতে চায়।
এদিকে এ কথা জানার পর বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক বিবৃতিতে মহাজোটের মহাসচিব এ্যাড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক বলেন হিন্দু ধর্মে একবারই বিবাহ হয়। এটা ছেলেখেলা নয় যে, ইচ্ছা হল রাখলাম আবার ইচ্ছা হল ছুড়ে ফেললাম। সমস্যা থাকলে তার সহজ সমাধানও আছে। অপরদিকে টুম্পার বিষয়টি জেনে অনুরূপ এক বিবৃতি দিয়েছেন বিজেএমএইচ(মানবাধিকার) এর চেয়ারম্যান ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি এ্যাড. প্রতিভা বাগচী, মানবাধিকার কর্মী আশীষ কুমার অঞ্জন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ক্রাইম ওয়াচ এর বাংলাদেশ কমিটি টুম্পার ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে এ সমস্যার সমাধানের আহ্বান রেখেছেন উভয় পরিবারের নিকট।