“প্রেম মানেনা বাধা নিষেধ, জাত গোত্র সমাজ”

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের সাচনা গ্রামে মন দেওয়া নেওয়ার প্রেম নিবেদনের মাধ্যমে অবৈধ ও শারীরিক সর্ম্পক গড়ে উঠে সাচনা নতুন পাড়া গ্রামের পিতা বিকাশ পাল মাতা দিপালী পাল এর ছেলে সুভাষ পাল (প্রাণেষ)২৪। একই গ্রামের রিপন দাসের মেয়ে। শুধু তাই না সময় অসময়ে নানা কৌশল প্রলোভন ব্যবহার করে দিন দিন গভীর সর্ম্পকে জড়িয়ে যায় রিপন দাসের মেয়ের সাথে সুভাষ পাল (প্রাণেষ)।
সরেজমিনে খোজ নিতে গেলে প্রেমিকা জানায়, ০৭ই অক্টোবর শনিবার রাতে বাড়ীতে কোন লোক না থাকায় এই সুযোগে আমার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে যাওয়ার সময় রিপন দাসের মেয়ে চিৎকার দিলে পার্শ্ববতী ঘরে থাকা তার চাচি ও আশপাশের লোক জন এসে সুভাষ পাল (প্রাণেষ) কে আটক করলে সে বিয়ে করবে বলে অনয় বিনয় করলে মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে নিরবে ছেরে দেওয়া হয়। পড় থেকে তার আর কোন খবর পাওয়া যায়নি। শুধু তাই না সময়ের প্রয়োজনে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষন করে। মেয়ের পিতা অবস্তা বেগতিক দেখে বিষয়টি নিয়ে রিপন দাশ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তারা আপোশে শেষ করার ব্যাপারে আসস্থ করে। পরে গ্রামে মৃত জীতেন্দ্র দাশের বাড়িতে শালিশ বসলে বিচারের কোন সূরাহা পাওয়া যায়নি। কোন সুষ্ঠ বিচার না পেয়ে রিপন দাসের মেয়ে বাদী হয়ে গত ১৩/১০/২০১৭ ইং তারিখে জামালগঞ্জ থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত২০০৩) এর ৯(১) মামলা দায়ের করেন, মামলা নাম্বার ০৯। মামলা দায়েরের পর জামালগঞ্জ থানার পুলিশ বিকাশ পালের ছেলে সুভাষ পাল (প্রাণেষ) কে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করে। গ্রেপ্তারের পর গ্রামে থমথমে ভাব বিরাজ করে, শুরু হয় দৌড় ঝাপ, একই গ্রামের গরীব অসহায় প্রেমিকার পিতা রিপন দাসকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দামকি ।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের সাচনা গ্রামের তৃষ্ণা রানী দাস, বিরাজ দাস, বিরনী রানী দাস, মায়া , রানী দাস, যিশু দাস জানান ঘঠনাটি আমরা বহুদিন থেকে জানি। আমাদের পার্শ্ববর্তী ঘর তার আসা যাওয়া টের পাই ঘটনার দিন রাতের আধারে, বিষয়টি আমরা দেখে ফেলায় সুভাষ পাল (প্রাণেষ) ঘঠনাটি কারও কাছে না বলার জন্য আমাদের অনুরোধ করে এবং বিয়ে করবে বলে জানায়।
রিপন দাসের মেয়ের সাথে সর্ম্পকের কথা জানতে চাইলে বলে, তার সাথে সম্পর্ক ০৭ (সাত) বছর ধরে। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ের ব্যাপারে কথা বার্তা হলে সুভাষ পাল (প্রাণেষ) বর পক্ষকে ফোন করে সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয়। এবং বিয়ে করবে বলে বর পক্ষকে জানায়, এছাড়াও আরও প্রমাণ চাইলে রিপন দাসের মেয়ের হাতে থাকা মোবাইলের একটি ২১ মিনিট প্রায় কল রের্কড শুনায় এবং মোবাইলের ম্যাসেঞ্জারে চ্যাটের কথা বার্তার রের্কড দেখায়। পরে সুভাষ পাল (প্রাণেষ) হাতের আঙ্গুল কেটে তার নিজ রক্ত দিয়ে মেয়ের নাম লিখে কয়েকটি চিঠির হার্ড কপি উপহার দেয়, গত প্রায় এক বছর যাবৎ সুভাষ পাল দূর্ভলতার সুযোগ নিয়ে কিছু ছবি সামাজিক যোগায়োগ মাধ্যম ফেইসবুক ইন্টারনেটে প্রচার করবে বলে হুমকী দিয়ে বলে আমার সাথে শারিরিক/দৈহিক সর্ম্পক অব্যহত না রাখলে তুমার মান সম্মান ধুলিস্বাত করে দেব। প্রেমিকা এ প্রতিনিধিকে জানায়, এখন বিকাশ পালের ছেলে সুভাষ পাল প্রাণেষ কে জীবন সঙ্গী হিসেবে না পেলে যে কোন সময় আত্নহত্যা করবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে। সুভাষ পালের পিতা বিকাশ পাল সাচনা গ্রামের প্রভাবশালী লোক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অনেকেই মুখ খুলতে নারাজ, টাকা পয়সার জোরে সম্পর্কের বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার পায়তাড়ায় লিপ্ত রহিয়াছে। লোক মুখে বিকাশ পালকে বলতে শুনা যায় রিপন দাসের জাত একটা আমার জাত আরেকটা, এ বিয়ে হয় কি ভাবে।
ছেলের পিতা বিকাশ পালের সাথে মোবাইল ফোনে বিষয়টির সত্যতা জানতে চাইলে পরে কথা বলব বলে ফোন রেখে দেন। সাচনা গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা বিমল দাস জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা বসে ছিলাম আপোশ মিমাংসা হয়নি।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রজব আলী জানান, আমরা ও গ্রামের সবাই মিলে চেষ্টা করেছি কিন্তু সূরাহ হয়নি।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী জামালগঞ্জ থানার এস আই সাইফুল্লাহ আখন্দ জানান, আসামী জেল হাজতে আছে। প্রাথমিক ভাবে ধর্ষনের আলামত পাওয়া গেছে, রির্পোট আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।