‘প্রার্থনা করছিলাম আল্লাহ যেন ক্যাচটি ধরিয়ে দেয়’

অভাগা তাসকিন। সেরা ফর্মে এসেও সেরা তালিকাতে নেই। এশিয়া কাপে তাসকিন আহমেদ দারুণ বোলিং করে বাংলাদেশের পেস অ্যাটাকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাত্র ২ উইকেট পেলেও তার মোট উইকেট পাওয়ার সুযোগ ছিল ৬টি। ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়ায় তাসকিন বঞ্চিত হন সাফল্য থেকে।

বুধবার পাকিস্তানের উমর আকমল তাসকিনকে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন। হওয়ায় ভাসতে থাকা বল খুব ভালোভাবেই তালুবন্দি করে নেন সাকিব। কিন্তু ক্যাচ ধরার আগে তাসকিনের প্রতিক্রিয়া ছিল দেখার মত। উমর আকমলের ব্যাট ছুঁয়ে বল উপরে উঠার সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে থাকেন তাসকিন। ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী দুই হাত তুলে ‘আল্লাহ-আল্লাহ’ বলেছিলেন ডানহাতি এ পেসার।

বৃহস্পতিবার তাসকিনের মুখে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকার কারণ শোণা গেল। নিজ বাসায় সাংবাদিকদের তাসকিন বলেন,‘টুর্নামেন্টে আমার বলে অনেকগুলো ক্যাচ মিস হয়েছে। ওই সময় যখন ক্যাচ উঠেছে তখন আমি প্রার্থনা করছিলাম আল্লাহ যেন ক্যাচটি ধরিয়ে দেয়। আমার অনুভূতিটা তখন এমনি ছিল।’

ক্যাচ ধরার পর তাসকিনের উদযাপনও ছিল দেখার মত। দীর্ঘদেহী এ পেসার দুই হাত প্রসারিত করে পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করেন। মনে হচ্ছিল বন্দী খাঁচার থেকে সদ্য মুক্তি পেয়েছেন তিনি। বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে তাসকিনের বোলিং স্পেল ছিল চোখে পড়ার মত। প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ২ রানে নেন ১ উইকেট। ১৮ বলের ১৬টিতেই ডট! ভালো বোলিং করেছেন। সঙ্গে দল ফাইনাল খেলছেন।

তাসকিনের ভাষায় একটি জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া,‘নিঃসন্দেহে এটা আমার জীবনের বড় পাওয়া। কারণ আমার জীবনের প্রথম এশিয়া কাপে আমি ফাইনাল খেলতে পারছি। আমরা খুব অসাধারণ দুটি ম্যাচ জিতেছি শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে, দলের সবারই অবদান ছিল তাতে। আমারও ভালো লাগছে আমিও অবদান রাখতে পারছি। দলকে সাহায্য করতে পারছি। যদি ফাইনালটা আরও ভালো কিছু হয় তাহলে সেটা আমাকে এবং দেশবাসীকে আরও বেশি আনন্দ দিবে।’

ফাইনালের প্রতিপক্ষ ভারতকে অবমূল্যায়ন করার কোনো কারণ দেখছেন না তাসকিন। প্রথম ম্যাচে রোহিত শর্মার উইকেটটি নিতে পারলে ভারতের পুঁজি ১৩০-১৪০ রানের আশেপাশে থাকত। কিন্তু তাসকিনের বলে রোহিতের ক্যাচ ছাড়েন সাকিব।এরপর পুরো ম্যাচের দৃশ্যপট একাই পাল্টে দেন রোহিত। সেজন্য ভারতকে অবহেলা করছে না দেশের অন্যতম সেরা এই গতিদানব।

তাসকিনের ভাষায়,‘নিঃসন্দেহে ভারত পৃথিবীর সেরা একটা দল। তবে আমরা যদি আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি তাহলে ভালো কিছু হওয়া সম্ভব। ৫০-৫০ সম্ভবনা আছে। ফাইনালে দল হিসাবে খেলটাই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি একটা ভালো ফাইনাল উপভোগ করবো। এশিয়া কাপের আগে আমরা দুইমাস ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আগের তিনটা ম্যাচেও ভালো খেলেছি। এই সবকিছু থেকেই আমাদের আত্মবিশ্বাসটা বাড়ছে। আমরা যে উন্নতি করছি সেটা প্রমাণ করতে পারছি। আমরা যদি আমাদের সম্ভাবনা অনুযায়ী খেলতে পারি, এবং নিজেদের সেরাটা দিতে পারি তাহলে আশা করি খুব ভালো একটা ফাইনাল হবে।’