প্রাথমিককে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা চ্যালেঞ্জিং

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করাটা চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।

তিনি বলেন, ‘এর কারণ আমরা এক জায়গায় আছি। সেখান থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে। আমাদের অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষানীতি ঘোষণা করেছেন। সংসদে সেটা পাস হয়েছে। এটা নিয়ে কাজ অনেক হয়েছে। ২০১৮ সালেই এটা বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। সেটা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তবে নিশ্চয় ২০১৯ সালে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সূর্য উদয় হবে এবং আমাদের সরকার এটা বাস্তবায়ন করবে।’

সোমবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০০১৮ এর ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গণশিক্ষামন্ত্রী।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ফিজার বলেন, ‘আমার ধারণা কোনো কোনো বাপ-মা বা অভিভাবক মনে করেন কীভাবে তার ছেলেটা বিদেশ যেতে পারবে? এ জন্য কিন্ডার গার্ডেন শব্দটাই আলাদা একটা রোমাঞ্চ রয়েছে। তারা হয়তো মনে করছে কিন্ডার গার্ডেনে পড়লেই তাদের ছেলেরা ইংরেজি শিখতে পারবে, বিদেশে যেতে পারবে।’

মানুষের স্বচ্ছলতা বাড়ছে তাই কিন্ডার গার্ডেনের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রামেও চলে গেছে কিন্ডার গার্ডেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অথচ আমাদের স্কুলের যে মান সে অনুযায়ী তাদের ঘরদুয়ার নেই, সেলারি স্ট্রাকচার নেই। তারপরও সরকারি স্কুলে কর্মরত সবার বোধের মাত্রাটা এখানও উন্নতি করতে পারিনি। সবদিক দিয়ে আমরা শতভাগ হতে পারিনি। তবে আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে অবকাঠামো ও পড়াশোনার মান সব দিক দিয়ে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি যে, এ বিদ্যালয়গুলো যেন দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। এর মানে এই নয় যে কিন্ডার গার্ডেন দেশ থেকে উঠে যাবে। আমার কথা হচ্ছে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। ইতোমধ্যেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। আশা করছি আমাদের সরকারি প্রথামকি বিদ্যালয়গুলো সেই মাত্রায় উন্নীত হবে। এ জন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এরই অংশ হিসেবে আমরা ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ের ৫৯ হাজারেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। আর একমাসের মধ্যে শতভাগ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ চলে যাবে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ নেয়া সম্ভব নয় সেগুলোতে সোলারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেয়ার কাজ চলছে।’

গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি কিন্ডার গার্ডেন আমাদের বিকল্প হতে পারবে না। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষককে বিশেষ করে ইংরেজিতে পারদর্শী করে গড়ে তুলতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্রিটেন থেকে শিক্ষক এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। সুতরাং কিন্ডার গার্ডেন আমাদের খেয়ে ফেলতে পারবে না। এমন অনেক কিন্ডার গার্ডেন আছে যেগুলোতে কোনো নিয়ম-কানুন মানা হয় না। এ জন্য একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে তারা রিপোর্ট দিলেই এসব কিন্ডার গার্ডেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’