প্রাইভেটকার কেটে বের করা হলো ৩ জনের লাশ

খুলনা সংবাদদাতা : খুলনার ফুলতলা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত দুইজন চিকিৎসকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে খুলনা-যশোর মহাসড়কের ফুলতলা উপজেলার রাড়িপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক চিকিৎসক শাহাদাৎ হোসেন (৬৩) ও চিকিৎসক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (৬১) প্রাইভেটকারযোগে যশোরের নওয়াপাড়ায় যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

ফুলতলা উপজেলার রাড়িপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা খুলনাগামী গড়াই পরিবহন বাসটি তাদের প্রাইভেটকারকে চাপা দেয়।

এ সময় বিকট শব্দে প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে রাস্তার বাইরে ছিটকে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এলাকাবাসীর সহায়তায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকার কেটে চিকিৎসক শাহাদাৎ হোসেনকে বের করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একই সময়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাইভেটকারের দরজা কেটে চিকিৎসক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্রাইভেটকার চালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে। তারা তিনজনই ঘটনাস্থলে নিহত হন।

খবর পেয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ এবং সাবেক সিভিল সার্জন চিকিৎসক তরুণ কান্তি হালদার ঘটনাস্থলে এসে সাবেক সহকর্মীদের এমন অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

নিহত চিকিৎসক শাহাদাৎ হোসেন খুলনার সোনাডাঙা থানার করিম নগর এলাকার মৃত মাজেদ আলীর ছেলে, চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন খুলনার সাউথ সেন্ট্রাল রোডের মৃত আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে এবং প্রাইভেটকার চালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খুলনার মুজগন্নি এলাকার মাহাবুবুর রহমানের ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলতলা থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, খুলনাগামী গড়াই পরিবহন বাসটি প্রাইভেটকারকে চাপা দিলে দুই চিকিৎসকসহ তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। প্রাইভেটকার কেটে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ফেলে চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। বাসটি জব্দ করা হয়েছে। চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি।