প্রস্তুত হচ্ছে রমনার বটমূল

বাংলা নববর্ষ বরণে পৃথিবী সেরা আয়োজনের জোর প্রস্তুতি চলছে রাজধানী ঢাকার রমনা বটমূলে। ছায়ানট টানা ৫০তম অনুষ্ঠান করতে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ। শুক্রবার ভোরে সুরে সুরে নতুন বছরের প্রথম দিনটিকে সম্ভাষণ জানানো হবে এখানে। এতে উপস্থিত থাকবে হাজার হাজার মানুষ।

গিয়ে দেখা গেছে, এরইমধ্যে মঞ্চের পাটাতন বসানো হয়েছে। এখন চলছে সজ্জার কাজ। ছায়ানটের কর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে সবকিছু প্রস্তুত করছেন। সঙ্গে আছেন কাঠ, বিদ্যুৎ আর সাউন্ড মিস্ত্রী। এগুলোর দেখভালে আছেন ছায়ানটের সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্বরা। বৈদ্যুতিক বাতি বসানো হচ্ছে। সুবিশাল সাউন্ড বক্স, মাউথ স্পিকার, ডায়াস বসানো হচ্ছে।

বটমূলের নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করতে গতকাল বিকেলে অসংখ্য র‌্যাব সদস্য ছিলো সেখানে। তারা বিদ্যুতায়িত নিরাপত্তা-ফটক বসিয়েছেন। বসানো হয়েছে ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি)।

যা থাকবে এবার

পয়লা বৈশাখ ছায়ানটের মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। শুরুতেই থাকবে সরোদ বাদন। এই পরিবেশনায় থাকবেন রাজপুর চৌধুরী। এরপর হবে পঞ্চকবির গান। এটাই আয়োজনের মূল আকর্ষণ। এতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রজনীকান্ত সেন, অতুল প্রসাদ সেন ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান থাকবে।

ছায়ানটের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠান শেষ হবে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে। তারা গাইবেন ২৮ থেকে ৩০টি গান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- টাকডুম টাকডুম বাজে, ওরে ভীষণ দরিয়ার ঢেউ, সব ভুলে যাই তাও ভুলি না ইত্যাদি।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড. নওয়াজেশ আহমেদ রমনা পার্কের ওই বটমূলটি প্রথম খুঁজে বের করেন ১৯৬৭ সালে। এই সঙ্গীতানুরাগী ছায়ানটকে প্রস্তাব দেন যে, মুক্ত খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির মাঝে শান্তির বার্তা নিয়ে এ বটমূলে হতে পারে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান।

সেই থেকে রমনা বটমূলেই হচ্ছে বাংলা বর্ষবরণের বার্ষিক প্রধান আয়োজনটি। কেবল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের কারণে একটি বার বন্ধ ছিল।

এবারের আয়োজন প্রসঙ্গে ছায়ানটের সহ সভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল গণমাধ্যেমে বলেন, ‘এবারের বর্ষবরণের গুরুত্ব আমাদের কাছে বেশি। কেননা, এটি ৫০তম আয়োজন। আমরা চেয়েছিলাম, প্রথম দিককার শিল্পীদের সকলকে নিয়ে আয়োজন সাজাতে। কিন্তু সবাইকে না পাওয়ায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না।’