প্রশ্ন ফাঁস সরকারকে যন্ত্রণা দেয়: এইচ টি ইমাম

গত কয়েক বছর ধরে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার বিষয় প্রশ্ন ফাঁস সরকারকে যন্ত্রণা দেয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

ইমাম বলেন, প্রশ্ন ফাঁস বর্তমানে একটা বড় রকমের সমস্যা। কোন দেশ এগিয়ে যাবার সময় এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। এটা সরকারকে যন্ত্রনা দিয়ে থাকে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আওয়ামী লীগের প্রচার উপকমিটির এক সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন এইচ টি ইমাম। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা নয় বছরে দেশে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা এইচ টি ইমামের কাছে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন।

বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রাথমিকের প্রশ্নও ফাঁস হচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে।

আবার যারা প্রশ্ন ফাঁস করছে তারা যে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে তাও না। কারণ ফাঁস হওয়া প্রশ্ন এবং তার সমাধান বিনামূল্যেই দেয়া হচ্ছে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমে।

প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে তার সবশেষ সংযোজন হলো পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে হলে ঢুকার আদেশ জারি।

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে প্রায়ই জবাবদিহির মধ্যে পড়তে হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে। এমনকি নিজ দলের সংসদ সদ্যরাও আক্রমণ করছেন তাকে। সবশেষ গত ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসকারীরা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে। আমরা যখন এর পাল্টা ব্যবস্থা করি তখন তারা আরেকটি প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হচ্ছে। এটা হচ্ছে উন্নয়নের সমস্যা, প্রযুক্তির সমস্যা। তবে, এটা আমরা মোকাবেলার চেষ্টা করছি।’

এইচ টি ইমাম মনে করেন প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত কোচিং সেন্টার। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য কোচিং সেন্টার একটা সমস্যা। পাবলিক সার্ভিসের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয় না, অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয়? সবাইকে পাবলিক সার্ভিসেস কমিশনের মত পরীক্ষা নেওয়া উচিত।’

এ সময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

ওই প্রতিবেদনে সিপিডি দাবি করেছে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের গতি স্লথ হয়েছে, কর্মংস্থান বৃদ্ধির হারও সীমিত। আবার ধনী-গরিবের বৈষ্যম্যও বাড়ছে। সিপিডির দাবি, সবচেয়ে গরিব পরিবারগুলোর আয় গত ১০ বছরে কমেছে।

প্রতিষ্ঠানটির এসব দাবি সরকারের নানা পরিসংখ্যানের বিপরীত। আর সরকারের পক্ষ থেকে সিপিডির কড়া সমালোচনাও উঠে এসেছে।

এইচ টি ইমামের কাছে সিপিডির প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিপিডি এখন পলিটিক্যাল ইকোনোমি করছে, তারা অন্য একটি রাজনৈতিক দলের তাবিদারি নিয়ে ব্যস্ত। আসলে যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা। ওদের মূল্য দিলে চলবে না। আমাদের নিজেদের মত করে এগিয়ে যেতে হবে।’