প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতার পরদিনই ছাত্রলীগের ‘বাড়াবাড়ি’

ঢাবি প্রতিনিধি : ‘বাড়াবাড়ি’ না করতে ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সতর্ক করার পরদিনই আবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

রবিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত ছাত্র সমাবেশ ও মানববন্ধনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়েছিল।

হামলায় এতে বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আহত হন বলে অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের দুই সহপাঠীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এই দুই জন হলেন কোটা আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন ও সোহরাব হোসেন।

ছাত্রদের কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে দুই দফা। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শেষ হওয়ার সাথে সাথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রথম দফা হামলার ঘটনা ঘটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেখানে এক শিক্ষার্থী আহত হন।

এই হামলার নেতৃত্বে দেখা গেছে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান লিমন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মোহাম্মদ নিজামুল ইসলামকে।

দ্বিতীয় দফায় হামলা হয় রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান উজ্জ্বল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমীর হামজার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন ও সোহরাব হোসেনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহৃত দুইজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ সময় পালাতে গিয়ে আহত হয়েছেন রাতুল সরকার নামে এক আন্দোলনকারী।

গত ২৭ জুন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা রাশেদ খাঁন ফেসবুক লাইভে এসে ‘মনে হয় তার বাপের দেশ’ এই জাতীয় বক্তব্য দেয়ার পর থেকেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালাচ্ছে।

 

এই কটূক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে অভিযোগ তুলে ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২ জুলাই ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। রাজশাহীতে এক ছাত্রকে হাতুরিপেটা করে পা ভেঙে দেয়া হয়।

গত ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার হামলা হয়। একই দিন প্রতিবাদী শিক্ষকদের এক কর্মসূচিতেও বাধা দেয় ছাত্রলীগ। আর এই ঘটনায় তীব্র সমালোচনা উঠে।
এর মধ্যে শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে যেকে ‘বাড়াবাড়ি না করার’ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার সকালে সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি কোটা সংস্কারের যে আন্দোলন; এ আন্দোলনে ছাত্রলীগের নামে আমরা কিছু বাড়াবাড়ির অভিযোগ পেয়েছিলাম।’

‘গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমাদের সভা শেষে আমাদের নেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবে আমার সামনে নেতাদের বলেছেন, ছাত্রলীগের নামে যেন কোনো বাড়াবাড়ির অভিযোগ আর তিনি না পান।’

তবে কাদেরের বক্তব্যের পর ছয় ঘণ্টা যেতে না যেতেই আবার ‘বাড়াবাড়ি’ করল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি উত্থাপন

শ দুয়েক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কোটা আন্দোলনের নেতা বর্তমানে কারাগারে থাকা রাশেদ খাঁনের মা সালেহা বেগম ও বাবা নবাই বিশ্বাস।

প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা গ্রেপ্তার সহপাঠীদের নিঃশর্ত মুক্তি, শিক্ষকদের লাঞ্ছনার বিচার এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার দাবি তোলা হয়।