প্রধানমন্ত্রীর উখিয়া সফরে খুশি ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের উখিয়ায় গিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোয় খুশি হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেছেন,জাতিসংঘসহ সারা বিশ্ব যখন মিয়ানমারের গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে,‘দেরিতে হলেও কিছুটা খুশি উনি (প্রধানমন্ত্রী) রোহিঙ্গাদের দেখতে এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেছেন। এতদিনে বোধোদয় হয়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি বোধোদয় হয়নি। সুযোগ পেলেই বিএনপিকে দোষারোপ করে বসেন।মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের আয়োজনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দশম কারামুক্তি দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।তবে জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার দাবি করা হলেও সেখানে যে গণহত্যা চলছে তার নিন্দা না করায় হতাশা প্রকাশ করেন ফখরুল।বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল সংসদে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেখানে যে গণহত্যা চালাচ্ছে, তারা পরিকল্পিতভাবে একটা জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে তার নিন্দা জানানো হয়নি। আমরা আজকের অনুষ্ঠান থেকে এর নিন্দা জানাচ্ছি।সবকিছুতে সরকার বিএনপির ষড়যন্ত্র দেখছে এমন দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৯২ সালে এমন অবস্থা (রোহিঙ্গা শরণার্থী) সৃষ্টি হওয়ায় তখন বেগম খালেদা জিয়া সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে চুক্তি করে জিয়াউর রহমান মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেছিলেন।বিএনপি রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনীতি করতে চায় সরকারি দলের নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, বিএনপি নয় বরং আওয়ামী লীগ রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনীতি করতে চায় বলেই এখন তারা প্রস্তাব দিচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আর বাংলাদেশের বিজিবি যৌথভাবে টহল দিয়ে অভিযান চালাবে। কিন্তু কোথায় এবং কার বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হবে। যাদের হত্যা, ধর্ষণ করা হচ্ছে, যাদের শিশুদের মেরে ফেলা হচ্ছে, যেখানে গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে? সেখানে বিজিবি থাকবে?মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমস্যা সমাধানে কথা বলতে হবে, আলোচনা করতে হবে। অথচ এ ব্যাপারে সরকারের মনোভাব আমরা ঠিক বুঝতে পারি না। মূলত পুরোপুরি নতজানু হয়ে গেলে, নিজস্বতা না থাকলে এবং অন্যের উপর নির্ভর করে চলতে থাকলে মানুষ সাধারণত এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো নেয়।ফখরুল বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার ভাষায় জানাচ্ছি, রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সরকারের এই গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই এবং মিয়ানমার সরকারকে বলছি, অবিলম্বে তারা যেন রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা বন্ধ করে।আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে দলটির মহাসচিব বলেন, আপনারা নির্বাচন নির্বাচন বলে খুব ঢোল বাজাচ্ছেন। নির্বাচন এই দেশে আমরাও চাই। কারণ, ২০১৪ সালে আপনারা যে নির্বাচন করেছেন তা এ দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছেন। আর সামনে যখন নির্বাচনের সময় আসছে তখন আপনারা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন কথা বলতে শুরু করেছেন।তিনি বলেন, আমাদের কথা খুব স্পষ্ট যে, আপনারা সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছেন। এক সময় এ দেশের মানুষ আপনাদের দেয়া তত্ত্বাবধায়ক প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। তিন বার সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার পর শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য গোটা বাংলাদেশকে অশান্তি, অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তাই আজ যত সংঘাত সমস্যা তৈরি হচ্ছে তার মূলে রয়েছে নির্বাচন।সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আশা করি আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সহায়ক সরকারের যে প্রস্তাব খালেদা জিয়া দেবেন সেই প্রস্তাব মোতাবেক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।এক-এগারোর সেনা-সমর্থিত সরকারের সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কারাবরণের কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, পরিকল্পিতভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধ্বংস করতে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিএনপিকে নানা অপপ্রচারের জবাব দিতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করিম বাদরু প্রমুখ।যুব সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।