প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের চিঠি

নিজস্ব সংবাদদাতা : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে তিনি লেখেন, রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে প্রয়োজনীয় অবস্থা সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যহত রাখবে।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনসে ব্লুম বার্নিটাক বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ট্রাম্পের পাঠানো এ চিঠি হস্তান্তর করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান করেন।

চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, ‘এখানে কোন প্রশ্ন নেই যে মিয়ানমারে এই সংকট (রোহিঙ্গা সংকট) সৃষ্টি করেছে তাদের অবশ্যই জবাব দিতে হবে।’

আশিক দশক থেকেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে সে দেশের সেনাবাহিনী। তবে গত আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের মুখে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এই সংখ্যাটি এখন ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

শুরুতে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে বাঁধা দিলেও রাখাইন রাজ্যে করুণ অবস্থা জানতে পেরে পরে সরকার আর বাধা দেয়নি। কক্সবাজারের দুটি আশ্রয় শিবিরে এখন অবস্থান করছে রোহিঙ্গারা।

বাংলাদেশ বিষয়টি শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিয়ে গেছে। জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের দুটি প্রস্তাবও পাস হয়েছে যাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পক্ষে ভোটও দিয়েছে।

আবার রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি সমঝোতা স্মারক এবং একটি চুক্তি সই করেছে। কিন্তু মিয়ানমার তার নাগরিকদেরকে ফিরিয়ে নিতে টালবাহানা করছে বলে জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করেছেন। এ সময় শেখ হাসিনা তাদেরকে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের মতোই রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘মানবিক নেতৃত্বের’ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সাড়া দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গভীর ভাবে কৃতজ্ঞ।
চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দেয়া বিরাট বোঝা। কিন্তু বিশ্ব জানে বাংলাদেশের এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে হাজার হাজার জীবন বেঁচে গেছে।’

‘আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদার বাংলাদেশের পাশে থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আশা করি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার নেতৃত্ব অব্যহত রাখবে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের চ্যালেঞ্জগুলো সামনে রাখবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চিঠির জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।

সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদেরকে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর জোরালো চাপ অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান পুর্নব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর আগমনে কক্সবাজারে স্থানীয় জনগণ যে ভোগান্তিতে পড়ছে এবং সেখানকার পরিবেশ যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেটাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা জানান, এক লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে সাময়িক আশ্রয় দিতে সরকার ভাষানচর দ্বীপটিকে প্রস্তুত করছে।

বার্নিকাট জানান, রোহিঙ্গাদের কষ্ট লাঘবে জাতিসংঘের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএইড সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে ইউএসএইড এর প্রেসিডেন্ট মার্ক গ্রিন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্টার সেন্টার এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মেরি অ্যান পিটারস শিগগির বাংলাদেশ সফর করবেন বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান বার্নিকাট।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের উচ্ছসিত প্রশংসাও করেন বার্নিকাট। সেই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ায় তাকে অভিনন্দনও জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ভিত্তি স্থাপন করে যান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি সেটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান প্রমুখ