প্রথম দিনেই অঘটনের জন্ম দিল বিকেএসপি

ক্রীড়া ডেস্ক : অনভিজ্ঞ এবং অপরিচিত মুখদের নিয়েই গড়া এবারই প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসা বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) দল। অথচ তারাই কি-না পঞ্চাশ ওভারের প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর আগে শুরু হওয়া প্রিমিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগের প্রথম দিনেই চমকে দিল সবাইকে।

প্রিমিয়ারের নিয়মিত দল প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি লিগের প্রথম দিনেই অঘটনের জন্ম দিয়েছে বিকেএসপি। মূল খেলা টাই হওয়ার পরে সুপার ওভারে ২ রানে জিতেছে বিকেএসপি। এর আগে মূল ম্যাচের নির্ধারিত ২০ ওভারে দুই দলই ১১১ রানে থামে।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে মেঘাচ্ছন্ন কন্ডিশনে দিনের প্রথম ম্যাচেও রান হয়নি খুব একটা। সে ধারা বজায় থাকে পরের ম্যাচেও। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় প্রাইম দোলেশ্বর।

বিকেএসপির বোলারদের তোপে প্রথম ৭ ওভারে মাত্র ৩৭ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান ৪ ক্রিকেটার। রান পাননি ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত পারফর্মার সৈকত আলি (১), সাঈফ হাসান (১) ও মার্শাল আইয়্যুব (৪)। তবে মোহাম্মদ আরাফাতের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রানের ইনিংস।

প্রাইম দোলেশ্বর মূলত ১০০ পার হয় মাহমুদুল হাসানের ৪৩ বলে ৪১ এবং তাইবুর পারভেজের ১৯ বলে ১৭ রানের দুইটি ওয়ানডে ব্যাটিং করা ইনিংসে। বিকেএসপির পক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন সুমন খান।

১১২ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তালগোল পাকিয়ে ফেলে বিকেএসপির টপঅর্ডার। দীর্ঘদেহী পেসার মানিক খানের তোপে পঞ্চম ওভারের মধ্যেই মাত্র ১৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে বিকেএসপি।

এর মধ্যে প্রথম ওভারের শেষ দুই বল এবং তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে যথাক্রমে ফাহাদ আহমেদ, পারভেজ হোসেন ইমন এবং রাতুল খানকে আউট করে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক তুলে নেন মানিক। ইনিংসের পাঁচ ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩-২-৬-৪!

সেখান থেকে পঞ্চম উইকেট জুটিতে দলকে জয়ের আশা দেখান জাতীয় যুব দলের দুই ক্রিকেটার শামীম হোসেন এবং আকবর আলি। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ৭৪ বলে ৮০ রানের জুটি গড়েন এ দুজন। ১৭ ওভার শেষে বিকেএসপির সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৯৫ রান। শেষ তিন ওভারে তখন প্রয়োজন ১৮ বলে ১৭ রান।

কিন্তু ১৮তম ওভারে আবারো বিপর্যয়। পরপর তিন বলে সাজঘরে ফেরেন তিন ব্যাটসম্যান। শামীম হোসেন (৩৬ বলে ৪৫) লেগ বিফোরের ফাঁদে ধরা পড়ার পরে আব্দুল কাইয়ুম এবং নওশাদ ইকবাল আউট হন রানআউটে কাঁটা পরে।

তখনো আশার আলো হয়ে ছিলেন আকবর আলি। কিন্তু ১৯তম ওভারে আকবরকে (৪৪ বলে ৪২) আউট করে প্রাইম দোলেশ্বরের আশা জাগিয়ে তোলেন ফরহাদ রেজা। সে ওভারে তিনি খরচ করেন মাত্র ৩ রান, শেষ ওভারে বাকি থাকে ১১ রান।

১১ রান আটকে দিয়ে ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব দেয়া হয় অভিজ্ঞ স্পিনার আরাফাত সানির কাঁধে। কিন্তু ওভারের প্রথম দুই বলে ২ রানের দেয়ার পর তৃতীয় বলে ছক্কা হজম করে ম্যাচের লাগাম প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। শেষ ৩ বলে তখন ৩ রান প্রয়োজন বিকেএসপির।

তখন আবারও খেই হারায় বিকেএসপি। চতুর্থ বলে রানআউট হন মুকিদুল, পঞ্চম বলে ১ রান নেন সুমন খান। শেষ বলে প্রয়োজন ২ রান। কিন্তু ১ রান নিয়ে রানআউট হন হাসান মুরাদ। ম্যাচ হয়ে যায় টাই। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

যেখানে আগে ব্যাট করতে নামে বিকেএসপি। দোলেশ্বরের পক্ষে বল হাতে তুলে নেন অধিনায়ক ফরহাদ রেজা। মাত্র ৪ বলের মধ্যেই ৬ রানে বিকেএসপির ২ উইকেট তুলে নেন রেজা। ফলে তার দলের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৭ রানের।

কিন্তু এ রান করে জয় তুলে নিতে পারেনি দোলেশ্বর। সুমন খানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪ রান করতে সক্ষম হয় ফরহাদ রেজার দল। ২ রানের অবিশ্বাস্য জয় পায় বিকেএসপি। ম্যাচ হারলেও অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করে ম্যাচসেরার পুরষ্কার জেতেন মানিক খান।