প্রচার শেষ, তিন সিটিতে ভোটের অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচার শেষ হয়েছে শনিবার মধ্যরাতে। আগামীকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত তিন সিটিতে ভোটগ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। আজকের মধ্যে ভোটের সামগ্রী চলে যাবে কেন্দ্রে কেন্দ্রে। তিন সিটিতেই নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

শনিবার শেষ দিনে তিন সিটিতেই জমে উঠে প্রচার। ভোটারের মন জয় করতে শেষ মুহূর্তের চেষ্টা চালান প্রার্থীরা। নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়ে নগরীর একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা।

তিন সিটিতেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে। তবে বরিশালে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এবং সিলেটে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনটি সিটিই বিএনপির দখলে যায়। এবার এই তিনটি সিটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপিও তাদের অবস্থান ধরে রাখতে চেষ্টায় ত্রুটি করছে না।

জাতীয় নির্বাচনের আগে তিন সিটির ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই ভোটের প্রভাব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পড়বে বলে মনে করেন তারা।

ভোটের লড়াইয়ে যারা

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা), বিএনপির মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ মোর্শেদ (হাতী)।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদেক আবদুল্লাহ (নৌকা), বিএনপির মো. মজিবুর রহমান সরোয়ার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ওবায়দুর রহমান মাহবুব (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবুল কালাম আজাদ (কাস্তে), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মনীষা চক্রবর্তী (মই) ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন (লাঙ্গল)।


সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দীন আহম্মদ কামরান (নৌকা), বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান (হাতপাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের-বাসদ মো. আবু জাফর (মই) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসান মাহবুব জোবায়ের (টেবিল ঘড়ি), মো. এহসানুল হক তাহের (হরিণ) ও মো. বদরুজ্জামান সেলিম (বাস)। তিন সিটিতে ৫৩০ জন কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কেন্দ্র ও ভোটার
রাজশাহী সিটিতে ৩০টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে ১৩৮টি ভোট কেন্দ্র ও এক হাজার ২৬টি ভোটকক্ষ রয়েছে। বরিশাল সিটিতে ৩০টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে ১২৩টি ভোট কেন্দ্র ও ৭৫০টি ভোট কক্ষ রয়েছে এবং সিলেট সিটিতে ২৭টি সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে ১৩৪টি ভোট কেন্দ্র ও ৯২৬টি ভোট কক্ষ রয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনে তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে দুই লাখ ৪২ হাজার ৬৬৬ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

সিলেট সিটি করপোরেশনে তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন।

নিরাপত্তা জোরদার
নির্বাচনের নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে থেকে তিন সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি টিম এবং প্রতি দুটি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে ১৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরা নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। আরও ৪ প্লাটুন করে বিজিবি রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

আচরণবিধি দেখভাল করতে নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের যুগ্মসচিব ফরহাদ আহম্মদ খান বলেন, ১৪ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ২৪ দিন ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিন সিটিতে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। ১০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট এই ২৩ দিন ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিন সিটিতে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।


এছাড়া নির্বাচনের দুই দিন আগে থেকে পরদিন পর্যন্ত আচরণ বিধি প্রতিপালন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতি সিটিতে ২০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং শনিবার থেকে পরবর্তী চার দিন রাজশাহী ও বরিশালে ১০ জন করে এবং সিলেটে ৯ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বরিশালে ১০টি, রাজশাহীতে দুইটি ও সিলেটে দুইটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে।

রাজশাহী সিটিতে সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বরিশালে মুজিবুর রহমান ও সিলেটে মো. আলিমুজ্জামন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়- নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার নন এমন ব্যক্তিদের শুক্রবার মধ্যরাতের মধ্যে নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে হবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করেছেন।