প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি থেকে নিজেদের সমর্থন তুলে নেয়ার পর আবারো ওই চুক্তির সঙ্গে জড়িত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এমনটা মনে করে যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যে ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ওই জলবায়ু চুক্তি হয়। জাতিসংঘের নেতৃত্বে হওয়া ওই চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগে নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়। ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এমনটা মনে করে গত ১ জুন স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া আরও ‘ন্যায্য’ চুক্তির জন্য ট্রাম্প বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানান।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবেন। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের দোটানা ভাব দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়া ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ধারণা দেন, নিজেদের অনুকূল শর্ত পেলে তারা এই চুক্তি নিয়ে আবারো আলোচনা করতে পারে।
টেলিভিশনে দেয়া একটি সাক্ষাতকারে টিলারসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো খোলামনে রয়েছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুষ্ঠু এবং ভারসাম্যপূর্ণ শর্ত যদি গ্রহণ করা সম্ভব হয় তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তার অংশীদারদের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, কার্বন নি:সরণ কমানোর জন্য সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতি, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সেটি ভারসাম্যপূর্ণ হয়নি। তবে প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থাকবে কিনা তার সরাসরি জবাব দেননি টিলারসন।এর আগে শনিবার ইউরোপিয় ইউনিয়নের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান, মিগুয়েল অ্যারিয়াস বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরো প্যারিস চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে চায় না, তবে তারা শর্তাবলীতে কিছু পরিবর্তন চাচ্ছে। যদিও সেদিন বিকেলেই হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন যে প্যারিস চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি।