পেছাতে পারে এমপিপুত্র রনির জোড়া খুন মামলার রায়

আদালত প্রতিবেদক : রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা পেছাতে পারে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল ঈমামের আদালতে এ রায় ঘোষণা করার কথা ছিল।

রায় পেছানোর বিষয়ে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ মাকসুদ বলেন, মামলাটিতে বখতিয়ার আলম রনির মোবাইল কললিস্ট জব্দ করা হয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কললিস্টের কথা উল্লেখও করেছেন। তবে তা একক্সিভিট করা হয়নি। তাই আমরা তদন্ত কর্মকর্তাকে রি-কল করে কললিস্ট এক্সিভিটপূর্বক রায়ের দিন ধার্যের আবেদন করেছি।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

এর আগেও গত ৮ মে মামলাটিতে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে রায় ঘোষণার তারিখ বাতিল করে পুনরায় যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

পরে ওই আদালতের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের বদলি মিস মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসে।

মামলাটির বিচারকালে আদালত ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর আসামি রনি আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

২০১৬ সালের ৬ মার্চ মামলাটিতে এ আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে আদালত চার্জগঠন করেন।

মামলাটিতে ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ডিবি পুলিশ রনির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলাটিতে বখতিয়ার আলম রনিকে তিনদফা দশ দিনের রিমান্ড শেষে ২০১৫ সালের ২ জুলাই আদালতে তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে একটি কালো রঙের প্রাডো গাড়ি থেকে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়লে তাতে অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।

ওই ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে রমনা থানায় ওই বছর ১৫ এপ্রিল একটি হত্যা মামলা করেন।

২০১৫ সালের ৩০ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বখতিয়ার আলম রনিকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

Inline
Inline