পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ জানাতে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ জানাতে সরকারি তিন দপ্তরে আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘কনসাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)।বৃহস্পতিবার সিসিএসের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান ডাক ও রেজিস্ট্রিযোগে এ নোটিশ পাঠান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানকে নোটিশটি পাঠানো হয়।নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে জনসমক্ষে পেঁয়াজের মূল্য বাড়ার কারণ দাপ্তরিকভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তা না হলে পরবর্তী সময়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, কিছুদিন আগে যে পেঁয়াজ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, সেই পেঁয়াজ এখন ৬০ টাকার বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। গত এক মাসে তিন দফায় পেঁয়াজের দাম ১১৩ শতাংশ বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম কেন এত বাড়ছে, নোটিশে সেই বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়।নোটিশে বলা হয়, চলতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভোক্তা সাধারণের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ফলে ভোক্তা সাধারণ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে এবং নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত ভোক্তাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি ভোগ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।টিসিবির মূল্য তালিকা থেকে দেখা যায়, জুলাই মাসের ১৩ তারিখে দেশি পেঁয়াজের বিক্রয় মূল্য ছিল প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩২ টাকা, আমদানিকৃত পেঁয়াজের মূল্য ২২ থেকে ২৫ টাকা। ৮ আগস্ট দেশি পেঁয়াজের মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, আমদানিকৃত পেঁয়াজের মূল্য ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত মূল্য তালিকায় দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের মূল্য প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, আমদানিকৃত পেঁয়াজের মূল্য ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে দেশি পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ১০৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বিদেশি পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ১২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। এক মাসে পেঁয়াজের গড়মূল্য বেড়েছে ১১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।নোটিশে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, বিগত অর্থবছর দেশে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। দেশে উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে পণ্যটির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ জুলাই মাসে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার টন, যা আগের মাসের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি।যেহেতু পেঁয়াজের উৎপাদন এবং আমদানি পর্যাপ্ত রয়েছে, সে কারণে সিসিএস মনে করে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এমতাবস্থায় আসন্ন কোরবানি ঈদ সামনে রেখে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সিন্ডিকেটের কারসাজি বলেই সিসিএসের কাছে প্রতীয়মান হয়।কনসাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি বা সচেতন ভোক্তা সমাজ (সিসিএস) সরকার নিবন্ধিত একটি বেসরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থা। সংস্থাটি ২০১৪ সাল থেকে দেশে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ এবং ভোক্তা অধিকার বাস্তাবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।