‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের স্মরণে দেশব্যাপী সকল পুলিশ ইউনিটে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০১৮’। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানী ঢাকা, সকল রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল- পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে স্বীকৃতি স্মারক প্রদান ইত্যাদি।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে দিবসটি পালিত হয়।

সকালে মিরপুরের পুলিশ স্টাফ কলেজে নির্মিত অস্থায়ী পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এবং নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবার পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে দিবসটি কর্মসূচি শুরু হয়। পরে একটি চৌকস পুলিশ দল সশস্ত্র সালাম প্রদান করে। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

২০১৭ সাল থেকে নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ প্রতি বছর ১ মার্চ পালন করা হচ্ছে।

আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে পিএসসি কনভেনশন হলে আয়োজিত স্বীকৃতি স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও অপারেশনস্) মো. মোখলেসুর রহমান, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এবং ডিআইজি (মিডিয়া এন্ড প্ল্যানিং) এ কে এম শহিদুর রহমান বক্তব্য দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে। সাধারণ মানুষ যখন ঘুমায় তখন পুলিশ জেগে থাকে। মানুষের নিরাপদ ঘুম নিশ্চিত করে। এ দায়িত্ব অত্যন্ত কঠোর।

তিনি বলেন, পুলিশ কঠোর পরিশ্রম করে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে।

কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তাদের পরিবারের কল্যাণ দেখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে সুযোগ-সুবিধা প্রদানে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক।

বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পুলিশের পেশা অন্য যে কোন চাকরির চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এ পেশায় ঝুঁকি নিয়েই আমাদের প্রতিনিয়ত দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার গুরু দায়িত্ব পালন করতে হয়। কর্তব্য পালনকালে জীবন উৎসর্গ করে পুলিশ সদস্যরা ত্যাগের এক সুমহান আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। তাদের এ আত্মত্যাগ আমাদের জন্য গৌরবের। দেশের মানুষ চিরদিন তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, আপনারা প্রিয় মানুষ হারিয়েছেন। আপনাদের প্রিয়জনকে আমরা ফেরত দিতে পারব না। আপনারা পুলিশ পরিবারের সদস্য। আমরা আপনাদের পাশে রয়েছি। আমরা আপনাদের যে কোন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। তিনি জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

পরে আইজিপি মঞ্চ থেকে দর্শক সারিতে এসে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গের হাতে স্বীকৃতি স্মারক ও উপহার তুলে দেন। নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ আইজিপিকে তাদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ক্রেস্ট, সনদপত্র, নগদ অর্থ এবং উপহার দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং তাদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান ও জনগণের জানমাল রক্ষাকালে বিগত ২০১৭ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় ১৩০ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গত ২৬ বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় বিভিন্ন পদবির এক হাজার ২৬৭ জন পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিবৃন্দ, ঢাকার পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবার উপস্থিত ছিলেন।