পুলিশের নতুন চ্যালেঞ্জ মাদক

নিজস্ব প্রতিবেদক : সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দক্ষতার সঙ্গে দমন করে বাংলাদেশকে বিশ্বে একটা নির্ভরযোগ্য অবস্থানে নিয়ে গেছে পুলিশ। এখন পুলিশের নতুন চ্যালেঞ্জ মাদক।

বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন করে বাংলাদেশ এখন নির্ভরযোগ্য জায়গায় পৌঁছেছে। পুলিশের জন্য এখন নতুন চ্যালেঞ্জ মাদক। মাদকের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে কাজ করছে সরকার। সারাদেশকে মাদকমুক্ত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পুলিশের প্রতি সংবেদনশীল জানিয়ে তিনি বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাস ও মাদক দমনে ডিএমপি সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছে। যা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত। সরকারের গত দুই মেয়াদে ৮২ হাজার ৩১ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পুলিশকে আধুনিকীকরণ ও উন্নয়নের ধারা চলমান রয়েছে। পুলিশ যদি নিরাপত্তার দায়িত্ব না নেয় তাহলে উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে- এমন ভাবনায় প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে যথেষ্ট অগ্রাধিকার দেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশ জনবান্ধবে রূপান্তরিত হয়েছে। ১০-১৫ বছর আগের আর এখনকার পুলিশ এক নয়। পুলিশ আস্থার প্রতীক হিসেবে মানুষের বিশ্বাসের জায়গা দখল করেছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পুলিশের মূল কাজ মানুষের মনে স্থান করে নেয়া। মানুষের পুলিশ ভীতি দূর করে আস্থা অর্জন করতে পারাই আমাদের স্বার্থকতা। সে লক্ষ্যে পুলিশকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মহানগরীর দুই কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির ৩৪ হাজার সদস্য আন্তরিকভাবে নিবেদিত। ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমন করে বিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।

ডিএমপি সদস্যরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইভেন্টে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা মাধ্যমে সফলভাবে ইভেন্ট সম্পন্ন করেছে। যা আন্তর্জাতিক মহলে সবসময়ই প্রশংসিত বলেও জানান তিনি।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে একটি র‌্যালি ডিএমপি সদর দফতর থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট (সোয়াট), সাইবার ক্রাইম ইউনিট, কে-নাইন ইউনিট (ডগ স্কোয়াড), কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ সব ইউনিট অংশ নেয়।