পানি শুকিয়ে যাওয়া নদীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমরাস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন এবং যুদ্ধপরবর্তী সময়ে নদী ও জলাশয়ের পানিতে অস্ত্র, বোমা ও অন্যান্য উপকরণ ফেলেছিলো যোদ্ধারা৷ এতদিন সেগুলোর খুব একটা সন্ধান না পাওয়া গেলেও সম্প্রতি জার্মানিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার নদী ও জলাশয়ের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সেসব অস্ত্র বেরিয়ে আসছে।

আর এ বিষয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করে দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেনেড, বোমা বা অন্য কোনো সামরিক সরঞ্জাম দেখতে পেলে কেউ যেন তাতে হাত না দেয়৷ খবর ডয়চে ভেলের।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির পূর্বাঞ্চলের সাক্সনি আনহাল্ট আর সাক্সনি রাজ্যের এলবে নদীর বিভিন্ন জায়গায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপুল পরিমাণ বোমা ও অস্ত্র পাওয়া গেছে৷ এগুলোর মধ্যে আছে ২২টি গ্রেনেড, মাইন ও অন্যান্য বিস্ফোরকদ্রব্য৷ পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এগুলো পাওয়া যাচ্ছে।’

জার্মানিতে এ বছরের জুলাইকে উষ্ণতম মাস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে৷ ৩১ জুলাই সাক্সনি আনহাল্টে তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ এ সপ্তাহের শুরুতে সাক্সনি আনহাল্টের মাগডেবুর্গে পানির উচ্চতা রেকর্ড ৫১ সেন্টিমিটার কমে গেছে৷ ১৯৩৪ সালে পানি কমেছিল ৪৮ সেন্টিমিটার৷

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ রকম কোনো অস্ত্র বা সরঞ্জাম দেখতে পেলে প্রথমে যেন তাদের খবর দেয়া হয়৷ এরপর অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞরা সেখানে গিয়ে পরীক্ষা করে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করেন৷ যেগুলো নিষ্ক্রিয় করা যায় না, সেগুলোকে খোলা জায়গায় নিয়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷

এর আগে গত মাসে এলবে নদীতে পাওয়া দু’টি অ্যান্টি ট্যাংক মাইন এর বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞরা৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অনেক বিস্ফোরক এলবে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল৷ যার মধ্যে অনেকগুলো ভেসে ভেসে চেক প্রজাতন্ত্র-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে এবং কিছু হামবুর্গের কাছে পৌঁছেছিল৷

Inline
Inline