পাকিস্তানও এখন শেখ হাসিনার সোনার বাংলাদেশ হতে চায়: ডাঃ দীপু মনি

এম এম কামাল, চাঁদপুর থেকে : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর-৩ অাসনের সংসদ সদস্য অালহাজ্ব ডাঃ দীপু মনি এমপি বলেছেন, যারা ধর্ম ব্যবসা করেন! তারা জেনে রাখেন, পাকিস্তানও এখন শেখ হাসিনার সোনার বাংলাদেশ হতে চায়। যারা দেশকে অাফগানিস্থান, সুইডেন বানাতে চান, তারা কখনোই এই দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান সম্পর্কে ধারণা নেন নাই।’

তিনি অারো বলেন, ‘বিএনপি দেশটাকে পাকিস্তান বানানোর জন্য উঠে পরে লাগছে। যেই জয় বাংলা ধ্বনি শুনলে পাকিস্তানিরা কেঁপে উঠেছে। তারা সেই জয় বাংলা উঠিয়ে পকিস্তানি জিন্দাবাদ ধ্বনি অনুসরণ করে। তারা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে। বাংলাদেশ বেতার না বলে বাংলাদেশ রেডিও বলে। তাদের দলের লোকজন দেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করে। তাদের দেশকে জঙ্গি বানানোর স্বপ্ন কখনো সফল হবে না।’

আজ শনিবার সকাল ৯ টায় কামরাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কামরাঙা ফাজিল মাদরাসা এবং ৪১নং কামরাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অায়োজনে বিদ্যালয় মাঠে বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, মাদক, জঙ্গিবাদ, অপসংস্কৃতি, ভার্চুয়াল অাসক্তি প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিচিতি ও শিক্ষার্থী কর্তৃক মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

এ সময় দীপু মনি বলেন, ‘ওই খালেদা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিছে। অার এখন মানুষ বিনামূল্যেই সেই কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। তারা ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করতে করতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে ১০০ মেগাওয়াট। অার অাওয়ামীলীগ সরকার মাত্র ১৪ বছরে ক্ষমতায় থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট।’

তিনি বিএনপিকে খুনির দল অাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘৭৫ এ যদি বঙ্গবন্ধুকে বংশ শুদ্ধ বিএনপি হত্যা না করতো তাহলে দেশের উন্নয়ন অারো অাগেই হয়ে যেত। বঙ্গবন্ধুকে মেরে ওরা দেশকে অনেক দূর পিছনে নিয়ে গেছেন। কিন্তু তবুও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশ উন্নয়নে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।’

এ সময় তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘এক দল দুষ্কৃতি দেশে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গন্ডোগল লাগানোর পায়চারায় অাছে। ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করা, মানুষকে পোড়াইয়া মারার ঘটনার মত গুজব থেকে নিজের সন্তান ও নিজে সতর্ক থাকুন। মনে রাখবেন ভাতৃত্ব বন্ধন ও শান্তির শ্রেষ্ট ধর্ম ইসলাম। অার বঙ্গবন্ধু অামাদের সেই অাদর্শই দেখিয়ে গেছেন। সকলে মিলে অামরা সোনার বাংলা নিশ্চিত করবো।’

এ সময় তিনি নিজের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন এবং সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে থেকে দলের জন্য কাজ করার সহযোগিতা কামনা করেন।

কামরাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও জেলা অাওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি ডাঃ জাওয়াদুর রহিম ওয়াদেদ(টিপু) এর সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন অাওয়ামীলীগ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন জাকির পাটোয়ারীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা অাওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অাবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।

আরও বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা অাওয়ামীলীগ সভাপতি নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, ৫ নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী, ৫নং রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ অাল মামুন পাটওয়ারী, কামরাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন পাটওয়ারী, কামরাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন প্রমুখ।

এ সময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, জেলা অাওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি শামসুল হক মন্টু পাটওয়ারী, সদর উপজেলা অাওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অালী অারশাদ মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক অায়ুব অালী বেপারি, যুগ্ম সম্পাদক অাজিজ খান বাদল, অাশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিল্লাল মাস্টার, ইউনিয়ন অাওয়ামীলীগ সভাপতি মোস্তফা কামাল, সহ-সভাপতি সোহরাভ হোসেন পাটোয়ারী, ৫নং রামপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মোহাম্মদ অাহসান হাবিব পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসীন খান, ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগ অাহ্বায়ক মমিনুদ্দিন অাহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম অাহ্বায়ক মোঃ ইসমাইল গাজীসহ সকল ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন অাওয়ামী লীগের ৯ ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সভাপতি, সম্পাদক নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন শিক্ষার্থী ফরাদুজ্জামান এবং গীতা পাঠ করেন সোমা রানী দাস।

পরে কামরাঙ্গার উন্নয়নে যারা কাজ করে গেছেন এবং রামপুর ইউনিয়নের সকল শহীদ ও মৃত লোকের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পড়ান কামরাঙ্গা ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অালহাজ্ব হযরত মুহাম্মদ মজিবুর রহমান। এ সময় প্রত্যেক সন্তানরা অাসনে থাকা নিজ নিজ মাতা-পিতার পা পানি দিয়ে নিজ হাতে ধুয়ে পরিষ্কার করে পরে হাতে ফুল তুলে দিয়ে প্রতীকি সম্মান জ্ঞাপন করেন।