পলাশবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা সংবাদদাতা : প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম লাগামহীন ভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং স্বল্প সুদে ব্যাংক বীমা থেকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা না পাওয়ায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প সমূহ।

গ্রাম বাংলার অতিত ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে শিল্প সমূহকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সে জন্য সকলের সার্বিক সহযোগিত কামনা করেছেন শ্রমিকরা।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সদরের হিজলগাড়ী, নুনিয়াগাড়ী, ফরকান্দাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে বাঁশ ও বেত শিল্পের কমপক্ষে দেড়শত শ্রমিক রয়েছে। আজ থেকে ১০ বছর আগে ওইসব শ্রমিক বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করে নিজে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাত। বর্তমানে ওইসব শ্রমিক বংশীয় পেশা ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।

কথা হয় সদর ইউনিয়নের হিজলগাড়ী গ্রামের বাঁশ শিল্প শ্রমিক হযরত আলীর সাথে। তিনি বাঁশ ও বেত শিল্পের উপকরণ বাঁশ, সুতলি, রং, তামার তারসহ বিভিন্ন উকরণের দাম চারগুণ হারে বেড়ে গেছে। যার কারনে এখন আর ওইসব কাজ করে লাভ হয় না। তাছাড়া দিন দিন বসতবাড়ি বেড়ে যাওয়ার কারনে উজার হচ্ছে বাশেঁর বাগান।

তিনি বলেন, আজ থেকে ২ বছর আগে যে বাঁশ বাজারে বিক্রি হতো ১’শ টাকায়, সে বাঁশ এখন দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চড়া দাম দিয়ে বাঁশ ক্রয় করে এনে বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করে বাজারে বিক্রি করলে তেমন লাভ হয় না। তাছাড়া বাঁশের তৈরি ডালা, চালন, কুলা, টালা, চাটাই, ডব, খাঁচাসহ অন্যান্য উকরণ এখন প্লাষ্টিক দিয়ে তৈরি হচ্ছে। সে কারনে বাঁশ ও বেত শিল্পের চাহিদা অনেকটা কমে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশন সহায়তায় বেশ কয়েকটি পরিবার বাঁশ শিল্পের কাজ পুনরায় শুরু করেছে।