পলাশবাড়ীতে বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীর বেরে উঠার গল্প

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা : পলাশবাড়ী পিয়ারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী রুজি (১৩) জন্মের ২ বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ায় মা অন্যত্রে বিয়ে হলে অসহায় শিশুটি স্থান হয় নানী কান বেগমের কাছে।
শত প্রতিকূলতার মাঝেও ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী রুজি তার লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল।

শিশুকাল পেরিয়ে কিশোরী বয়সের শুরুতে বিয়ের পিড়িতে বসাতে চাইলে সে প্রতিবাদ করে বাল্য বিয়ে থামিয়ে দিতে প্রশাসনের সহযোগীতা গ্রহন করে।
দেখতে সুন্দর হওয়ায় নিজের ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে জোড় পূর্বক মঙ্গলবার হঠাৎ নানি ওর বিয়ে ঠিক করে। বিয়ের কথা শুনে আকাশ ভেংগে পড়ে এ কিশোরীর মাথায়।
লেখাপড়া করে ভাল মানুষ হওয়ার স্বপ্ন মূহূর্তে ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলে পালক নানার কাছে প্রকাশ করে নিজের ইচ্ছার কথা।
এমন পরিস্থিতে নিরুপায় হয়ে এক প্রতিবেশীর মোবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাহায্য চায় ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেনের নির্দেশে তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আরিফ হোসেন ও থানা পুলিশের এস আই হায়দার আলী সঙ্গীয় ফোর্স নানী কানু বেগমের বাড়ীতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন।
এর পর কিশোরীর নানী কানু বেগমের সাথে কথা বলে বিয়ে বন্ধ এবং এ কিশোরীর বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগে বিয়ে দিবেন না মর্মে ওর নানীর নিকট হতে মুচলেকা গ্রহণ করেন।
বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় কিশোরী খুব খুশি। সে লেখাপড়া করে অনেক বড় হতে চায়। তার লেখাপড়া সহ যেকোন বিষয়ে সব রকম সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসন।
কিশোরী জানান, আমি মানুষের মতো মানুষ হতে চাই জ্ঞান অর্জন করে শিক্ষিত হয়ে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, নিজ মেধাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষক বা ডাক্তার হতে চাই।