পলাশবাড়ির সাব রেজিষ্ট্রি অফিসটি নানা সমস্যায় জর্জরিত

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা সংবাদদাতা : পলাশবাড়ি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত ও বেহাল দশায় পরিণত একটি অফিস। জরাজীর্ণ ভবনে চলছে জমি রেজিষ্ট্রির কাজ। সরকারীভাবে নতুন কোন বিল্ডিং বা ভবন নির্মাণ করা হয়নি। পুরনো ভবনেই সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
জানা যায়, পলাশবাড়ি সদরের ব্যস্ততম এলাকায় পলাশবাড়ি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের মাসিক রাজস্ব আয় রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ৮ জন, নকল নবীশ ২৪ জন, ভেন্ডারসহ দলিল লেখক রয়েছে ৮৬ জন। লাভজনক এ অফিসটিতে জনবলের বসার স্থান সংকুলান হচ্ছে না। ভবনের চার পাশে ময়লা আবজর্নার স্তুব জমে নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯০ সনে তৈরী এ বিল্ডিং ভবনটি সংস্কারের অভাবে ভবনের গায়ে জমে গেছে শ্যাওলা। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরটির একটি সাইন বোর্ড নাই বা ব্যানারও নাই। তাছাড়া অফিসবারে জমি রেজিষ্ট্রি করতে আসা দুই হাজারেরও অধিক লোকজনের জন্য শৌচাগার সমস্যা প্রকট। অফিসে আসা বিশেষ করে মহিলারা প্রাকৃতিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। দৃশ্যমান একটি ছোট টয়লেট থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী ও প্রায় সময় থাকে তালাবদ্ধ অবস্থায়। একটি টিনসেড ঘরের ভিতরে গাদাগাদি করে চলে দলিল লেখকদের দলিল লেখার কার্যক্রম। এছাড়াও ঐ ঘরের উপরে অনুমান দু’শ বছরের পুরনো ২টি রেইনট্রি গাছ থাকায় প্রতিনিয়ত শংকা ভয় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে দলিল লেখকদের। দুর দুরান্ত থেকে আসা লোকজনের নাই কোন বসার জায়গা বা বিশ্রামাগার। একচালা একটি টিনসেড ছাপড়া ঘরের গ্যারেজ থাকলেও নজরদারীর অভাবে যত্রতত্র রাখা হচ্ছে রিক্সা-ভ্যান, অট্রো ও মোটরসাইকেল। এতে মানুষ জনের চলা ফেরায় বিঘ্ন ঘটছে। এ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে মাসিক আয় থাকা সত্বেও এবং রাজস্ব আয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ এ অফিসটির বর্তমানে বেহাল দশা নিয়ে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেয়ার পরও এ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না। অবস্থার দৃষ্টিপটে মনে হয় এ যেন দেখার কেউ নেই। তাই গুরুত্বপূর্ণ এ অফিসটির কার্যক্রম এভাবে চলায় জনমনের নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পলাশবাড়ি সাব রেজিষ্টার হিসাবে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার রয়েছেন দীর্ঘদিন পার হলেও অফিসটির কোন উন্নয়ন হয়নি। এ ব্যাপারে সাব রেজিষ্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রানা সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জুলহাস উদ্দীন দুলু বলেন, পলাশবাড়ি সাব রেজিষ্টার অফিস ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং জমি রেজিষ্ট্রি করতে আসা লোকজন ও অফিসের লোকজনের জন্য শৌচাগার সমস্যা প্রকট। অফিসে আসা বিশেষ করে মহিলারা প্রাকৃতিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং বিশ্রামাগার অভাবে বৃদ্ধ অসুস্থ মানুষজন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বড় রেইনট্রি গাছ দু’টি অপসারণের জন্য ইতিপূর্বে কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। জনস্বার্থে এ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের নতুন বিল্ডিং ভবন নির্মাণ করা জরুরী প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।