পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১২০ দিন পরেও ফল প্রকাশ হয়নি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১২০ দিন পরেও ফল প্রকাশ হয়নি। অথচ বিভাগ হতে পরবর্তী সেমিস্টারে ভর্তির জন্য তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ফলাফল না পাওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা ফরম পূরণ করতে সমর্থ না হয়ে রেজাল্টের জন্য বিভিন্ন দ্বারে ঘুরছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের ‘এ’ গ্রুপের শিক্ষার্থীদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু একই বিভাগের একই বর্ষের ‘বি’ গ্রুপের মাস্টার্স প্রথম সিমেস্টারের রেজাল্ট এবং দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফরম পূরণও সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের ‘এ’ গ্রুপের কোর্স শিক্ষক ড. মুহাম্মদ শফিক আহমেদ ও প্রভাষক কাজী ফারজানা আফরীন খাতার ভেতর না দেখে শুধুমাত্র কাভারপেজ দেখেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন। এমন অভিযোগের কারণে উপাচার্য বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ডিসিপ্লিনারি বোর্ডে (ডিবি) পাঠান। এ বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে ‘উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করেই নম্বর দেওয়ার অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিলো। কিন্তু দেড় মাস পার হলেও এই ডিবি হতে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট আটকে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে রেজাল্ট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ভুক্তভোগীদের পরীক্ষা শেষ হয়েছিলো গতবছরের ২৮ আগস্ট।

পরবর্তী সেমিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য পরীক্ষার ফলাফল প্রয়োজন হয়। এ কারণে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা রেজাল্টের জন্য একবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ডিসিপ্লিনারি বোর্ড প্রধান), আরেকবার বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।

এক শিক্ষার্থী জানান, রেজাল্টের জন্য বিভাগে গেলে সেখান থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে যেতে বলছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে গেলে তিনি প্রক্টরের কাছে পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব অসহায়, দ্রুত আমাদের রেজাল্ট দিয়ে দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মো. শফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ফলাফলের বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।’ তবে পরবর্তী সেমিস্টারে ভর্তি হওয়ার ফরম পূরণের তারিখ পেছানো হবে বলে জানান তিনি।

যোগাযোগ করা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ বিষয়ে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টির সঙ্গে ছাত্র থেকে শুরু করে অনেকে জড়িত। সবাইকে সমন্বয় করে দ্রুত রেজাল্ট দিয়ে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি ডিসিপ্লিনারি বোর্ডে দিয়ে দিয়েছি। তারাই দেখবে।

Inline
Inline