পরিসংখ্যানে তিন সিটির নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মোট আট লাখ ৮২ হাজার ৩৬ জন ভোটারের সমর্থন লাভে তিন মহানগরীতে তিন সপ্তাহের প্রচারের ফল প্রকাশ আজ। ভোটাররা ভোট দিয়ে জানিয়ে দেবেন, কাদের হাতে তারা দিতে চান নগর পরিচালনার দায়িত্ব।

তিন মহানগরের ভোটের আমেজ অবশ্য কেবল এই শহরে সীমাবদ্ধ নেই সারা দেশেই দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকরা জানতে চান, তাদের অবস্থান এখন কোথায়। কে বেশি জনপ্রিয় দেশে। সংসদ নির্বাচনের বছরে স্থানীয় এই নির্বাচনে তাই এসেছে জাতীয় নির্বাচনের আমেজ।

ভোটের সংখ্যার দিক দিয়ে তিন মহানগরে সবার চেয়ে এগিয়ে সিলেট। এরপর রাজশাহী আর সবার শেষে বরিশাল।

মেয়র ছাড়াও ওয়ার্ড কাউন্সিলর আর সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন ভোটাররা। তবে দৃষ্টি থাকবে মেয়র হিসেবে কারা জিতবেন। এই পদেই কেবল ভোট হচ্ছে দলীয় প্রতীকে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন

রাজশাহীতে সাধারণ ওয়ার্ড ৩০টি, আর প্রতি তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডের বিপরীতে একটি হিসাবে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড ১০টি। ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩জন।

এখানে ভোট কেন্দ্র ১৩৮টি ও ভোট কক্ষ ১ হাজার ২৬টি।

এ মহানগরীতে মেয়র প্রার্থী মোট পাঁচ জন। এরা হলেন: আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা প্রতীক), বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান (কাঁঠাল), ইসলামী আন্দোলনের সফিকুল ইসলাম (হাতপাখা)ও স্বতন্ত্র মুরাদ মোর্শেদ (হাতী)।

বরিশাল সিটি করপোরেশন

বরিশালেও সাধারণ ওয়ার্ড ৩০ টি আর সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড ১০টি। এখানে ভোটার দুই লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন ও নারী এক লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন। ভোট কেন্দ্র ১২৩টি ও ভোট কক্ষ ৭৫০টি।

এই নগরে মেয়র প্রার্থী মোট সাত জন। এরা হলেন: নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, ধানের শীষে বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস, হাতপাখায় ইসলামী আন্দোলনের ওবায়দুর রহমান মাহাবুব, মই প্রতীকে বাংলাদেষের সমাজতান্ত্রিক দলের মনীষা চক্রবর্তী, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির আবুল কালাম আজাদ-কাস্তে প্রতিক এবং হরিণ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বশির আহমেদ ঝুনু।

সিলেট সিটি করপোরেশন

সিলেটে সাধারণ ওয়ার্ড ২৭টি।, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৯টি। ভোটার তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষএক লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন ও নারী এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন। ভোট কেন্দ্র ১৩৪টি ও ভোট কক্ষ ৯২৬টি।

এই নগরেও মেয়র প্রার্থী সাত জন। এরা হলেন: আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা), বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), বিএনপির বিদ্রোহী (বাস), স্বতন্ত্র হিসেবে জামায়াতের এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (টেবিল ঘড়ি) ইসলামী আন্দোলনের মোয়াজ্জেম হোসেন (হাতপাখা), সিপিবি-বাসদের আবু জাফর (মই) এবং স্বতন্ত্র এহসানুল হক তাহের (হরিণ)।

ইভিএম মোট ১৫টি কেন্দ্রে

তিন মহানগরে মোট ১৫টি কেন্দ্রে ভোট নেয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে। এর মধ্যে যন্ত্রটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হবে বরিশালে, ১১ টি। রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুইটি করে কেন্দ্রে এই যন্ত্রে ভোট নেয়া হবে।

সকল শ্রেণির ভোটারা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য তিন শহরেই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও ভোটের দায়িত্বে তিনজন কমিশনার

নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার জানানো হয়, তিনজন নির্বাচন কমিশনার তিন সিটি নির্বাচন তদারকি করছেন। এর মধ্যে মাহবুব তালুকদার বরিশালে, রফিকুল ইসলাম সিলেটে এবং শাহাদাত হোসেন চৌধুরী রাজশাহীর দায়িত্বে আছেন।

তিনটি নগরেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি সাধারণ ভোকেকেন্দ্রে পুলিশ আনসারসহ ২২ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে পুলিশ, আর্মড পুলিশ-এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ান আনসারদের সমন্বয়ে মোবাইল টিম, প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতি সাধারণ ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি টিম, প্রতি দুইটি সাধারণ ওয়ার্ডে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে।

মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোটগ্রহণের আগের দুইদিন আগে থেকে মোতায়েন আছে বিজিবি। তারা মোতায়েন থাকবে ভোটের পরেরদিন পর্যন্ত।

শনিবার থেকেই প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন। তারা ভোটগ্রহণের পরের দুইদিন পর্যন্ত থাকবেন।

এছাড়া নির্বাচনী অপরাধ বিচার আমলে নেয়ার জন্য তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য একজন করে বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচনী এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই দিবাগত মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ রয়েছে।