পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় গৃহবধূকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

যশোর সংবাদদাতা : যশোরে ভাবীর সঙ্গে স্বামীকে অনৈতিক কাজ করতে দেখে ফেলায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই গৃহবধূর নাম ছালমা খাতুন (২০)। হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।

রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহর তলির তপসিডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত স্বামী জামাল হোসেন।

নিহত ছালমা খাতুন তপসিডাঙ্গা গ্রামের জামাল হোসেনের স্ত্রী এবং মনিরামপুর উপজেলার শোলখাদা গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে।

নিহতের মামা মনির হোসেন জানান, আমার ভাগ্নি ছালমাকে গত তিন বছর আগে রড মিস্ত্রী জামাল হোসেনের সাথে বিয়ে দেই। বিয়ের সময় নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামালসহ আড়াই-তিন লাখ টাকার মালামালও যৌতুক হিসাবে দেওয়া হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সোয়াদ হোসেন নামে একটি এক বছরের ছেলে সন্তান আছে। তার পরেও জামাল আমার ভাগ্নিকে হত্যা করেছে।

নিহতের মামাতো বোন রাবেয়া বেগম বলেন, আমার বোন ছালমা আমাকে বহুবার বলেছে জামালের সাথে তার ভাবি কাজল বেগমের পরকীয়া প্রেম আছে। আজ ভোরবেলা ছালমা আমাকে মোবাইল ফোনে বলেছে শনিবার দিবাগত রাতে জামাল ও কাজল বেগমকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত অবস্থায় হাতে নাতে ধরেছে। ওই রাত থেকেই জামাল ছালমাকে মারপিট করছে। সকাল ৯টার দিকে খবর পাই ছালমাকে শ্বসারোধ করে হত্যা করেছে। ঘটনাস্থলে এসেও তাই পেয়েছি।

নিহতের চাচা বিল্লাল হোসেন বলেন, আমরা আগে থেকেই জানতাম জামালের সাথে তার ভাবির পরকীয়া প্রেম চলছে। পরকীয়া প্রেমের কারণে জামাল আজ সকালে আমার ভাতিজিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পরে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না জড়িয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরে আমরা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেই।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার এম আব্দুর রশিদ বলেন, ছালমা খাতুন নামে একজন গৃহবধুর লাশ হাসপাতাল মর্গে আনা হয়েছে। এটা হত্যা কি আত্মহত্যা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে বলা যাবে।

কোতয়ালি থানার এসআই সাহিদুল আলম বলেন, আমি ছালমা খাতুনের মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে যাই। নিহতের লাশ আমি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি। এলাকাবাসী বলছে ছালামা খাতুন আত্মহত্যা করেছে। আর নিহতের তার পরিবার বলছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে আনা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে নিহতের শ্বামী জামাল হোসেনের সাথে তার ভাবী কাজলের পরকীয়া প্রেম ছিল এটা ঠিক। জামাল পলাতক রয়েছে।