পরকালের আলোচনায় শেষ হবে আজকের তারাবিহ

ধর্ম ডেস্ক : রহমতের দশকের শেষ তারাবিহতে আজ। কুরআনুল কারিমের ১৩তম পারার তেলাওয়াত সম্পন্ন হবে। সুরা ইউসুফের শেষাংশসহ সুরা রাদ, ইবরাহিমসহ সুরা হিজরের প্রথম আয়াত রয়েছে এ পারায়।

হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনাবহুল প্রেরণাদায়ক আলোচনা সুমধুর কণ্ঠে তেলওয়াত করবেন হাফেজে কুরআনগণ। তারাবিহ নামাজ আদায়কারীদের জন্য এ পারার অনুবাদ ও বিষয়ভিত্তিক তাফসির অধ্যয়নে রয়েছে অনেক উপকারিতা।

আজকের তারাবিহতে তেলাওয়াত করা সুরাগুলোর আলোচ্য বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

সুরা ইউসুফ

বিশ্বনবির মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ের শেষ দিকে এ সুরাটি নাজিল হয়। এ সুরার ৫৩নং আয়াত থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করা হবে। এ সুরাটি একজন প্রসিদ্ধ পয়গাম্বরের নামে নামকরণ করা হয়েছে। অন্যান্য সুরার সঙ্গে এ সুরার বিশাল পার্থক্য রয়েছে।

অন্য সুরাগুলোতে যেমন বিভিন্ন বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এ সুরাটি তেমন নয় বরং এ সুরাতে শুধু পয়গাম্বর হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের কথাই বলা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংগ্রামী জীবনের অনেক ঘটনাই হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের সংগ্রামী ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়। আল্লাহ যেভাবে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। যা তিনি তার বাবার কাছে বর্ণনা করেছিলেন। ঠিক তেমনি আল্লাহ তাআলা বিশ্বনবিকেও নবুয়তের আগে এ রকম সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যেভাবে আপন ভাইদের কাছে কষ্ট ও নির্যাতন পেয়েছেন ঠিক বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আপনজনদের কাছে অনেক নির্যাতন ভোগ করেছেন।

হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম নির্যাতনকারী ভাইদের প্রতি যেমন প্রতিশোধ নেননি। বিশ্বনবিও নিজ আপনজনদের থেকে ইসলামের বিজয়ের পর আগের নির্যাতনের কোনো প্রতিশোধই গ্রহণ করেননি।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের আগে অত্যাচার নির্যাতনের চরম সময়ে মক্কার শেষ দিনগুলোতে সুরা ইউসুফ থেকেই গ্রহণ করেছিলেন পরম সান্ত্বনা। যেখানে বর্ণিত হয়েছে আপন ভাইদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের সে ঐতিহাসিক বর্ণনা।

পরবর্তী সময়ে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম বাদশাহ হওয়ার পরও তিনি তার ভাইদের প্রতি ইহসান করেছেন। কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লামও মদিনায় হিজরত করলেন আবার মক্কা বিজয় করলেন। তাঁর প্রতি কোনো অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিশোধ তিনি গ্রহণ করেননি। যা তিনি ওহি হিসেবে সুরা ইউসুফে পেয়েছিলেন। মুসলিম উম্মাহর শিক্ষা গ্রহণের জন্য অনন্য হোক সুরা ইউসুফ।

সুরা রাদ

এ সুরার কয়েকটি আয়াত ছাড়া বাকি আয়াতগুলো মক্কায় নাজিল হয়েছে। এ সুরায় আয়াত রয়েছে ৪৩টি। দ্বীন ইসলামের মৌলিক আকিদ্বা বিশ্বাস সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে সুরাটিতে।
তাওহিদ, রেসালাত, ওহি, শেষ দিবসের কর্মফল, হক ও বাতিলের তাৎপর্য ও পার্থক্য সম্পর্কে রয়েছে বিশেষ আলোচনা। তাই সুরার প্রথমেই এসেছে হকের আলোচনা।

সুরা ইবরাহিম

৫২ আয়াত বিশিষ্ট কুরআনুল কারিমের ১৪তম সুরা এটি। মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনার পাশাপাশি সুরাটিতে বিশ্বনবির রেসালাত, নবুয়ত এবং কিছু বৈশিষ্ট্য আলোচিত হয়েছে।

এ সুরার আলোচনা মানুষকে গোমরাহীর অন্ধকার থেকে হেদায়েতের পথে নিয়ে আসার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। যা হেদায়েত বঞ্চিত মানুষকে সহজে দ্বীনের পথে নিয়ে আসতে পারে।

এ সুরায় আল্লাহ তাআলা পরকালের সেসব বর্ণনা তুলে ধরেছেন, যা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত হতে উৎসাহ দেবে। মানুষ সত্যের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ হবে। অন্যায় ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে।

সুরার শেষ দিকে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যাতে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। এটা মানুষের জন্য একটি সংবাদনামা। আর যাতে এর দ্বারা ভীত হয় এবং যেন জেনে নিতে পারে যে, ইবাদতের উপযুক্ত উপাস্য তিনিই, (যিনি) একক এবং আর তাতে রয়েছে বুদ্ধিমানদের জন্য চিন্তা-ভাবনা।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৫১-৫২)

সুরা হিজর

রহমতের দশকের শেষ তারাবিহতে সুরা হিজরের প্রথম আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে শেষ হবে। সুরা হিজর ৯৯ আয়াত এবং ৬ রুকুতে বিন্যস্ত। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ। ‘হিজর’ একটি স্থানের নাম। এ স্থানটি সিরিয়া ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
এ স্থানের অধিবাসীরা নাফরমানির কারণে আল্লাহর আজাবে পতিত হয়েছিল। আলোচ্য সুরায় তাদের ধ্বংসের বিস্তারিত বিবরণ স্থান পেয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের বিষয়বস্তু অধ্যয়ন করার মাধ্যমে দ্বীনের সঠিক পথ লাভের তাওফিক দান করুন। রমজানে কুরআনের নূর তথা হেদায়েত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।