পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য ও কাপড়ের মূল্যের বাজার মনিটরিং জোরদারে ক্যাব চট্টগ্রামের সুপারিশ

চট্টগ্রামে পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য ও কাপড়ের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের নেতৃৃত্বে সিটি কর্পোরেশন, আইন শৃংখলা বাহিনী, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিদপ্তর, কৃষি, প্রাণী সম্পদ, মৎস্য, জেলা বাজার কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও ক্যাব প্রতিনিধি সমন্বয়ে সমন্বিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম র্দীঘদিন চলমান রয়েছে। চলমান এ বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসাবে ০৩ মে ব্যবসায়ী, ক্যাব ও সরকারী দপ্তর সমুহের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৯ মে থেকে মাঠ পর্যায়ে বাজার মনিটরিং শুরু করা হয়। চলমান বাজার মনিটরিং কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার জন্য ১৩ দফা সুপারিশ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেনের কাছে পেশ করেছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও মহানগর কমিটি। ১৭ মে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ গুলো পেশ করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। এ উপলক্ষে ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, ও সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাব চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে সুপারিশ গুলোর মধ্যে রয়েছে পবিত্র রমজান মাসে সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং এর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ০৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব প্রদান, বিএসটিআই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পানি, বেকারী, মুড়ি, ঘি এর হালনাগাদ তালিকা সংগ্রহ করে এ সমস্ত খাতে অবৈধ ফ্যাক্টরী/কোম্পানী গুলির বিরুদ্ধে বাজার মনিটরিং টিম চলাকালীন সময়ে ব্যবস্থা নেয়া, দেশের বৃহত্তম পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জে পাইকারী ও খুচরা পণ্যের রশিদ সংগ্রহ করে পণ্যমূল্য পর্যালোচনা করা। যাতে করে ব্যবসায়ীরা পাইকারী ও খুচরা বাজারের মূল্য পার্থক্য নিয়ে কারসাজি করতে না পারে, অধিকাংশ কাপড়ের দোকান গুলিতে নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা থাকে না। কাপড়ের দোকানে কোড প্রথা তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনে ফিক্সড প্রাইস প্রথা চালু করা, খুচরা ও কাঁচা বাজার গুলিতে সবসময় পাইকারী দোকানের সাথে মূল্য পার্থক্য অত্যাধিক বেশী থাকে। তাই বাজার মনিটরিং চলাকালে মূল্য বেশী আদায়কারী ব্যবসায়ীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য মালামাল জব্দ করে মালগুলি এতিম খানায় দিয়ে দেবার ব্যবস্থা করা, মোবাইল কোর্টের অভিযান প্রতিদিন একই সময়ে না করে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পরিচালনা করা, প্রয়োজনে বিকাল ও সন্ধ্যার পর অভিযান পরিচালনা করা, মাঝে মাঝে বাজারে তাৎক্ষনিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা, বাজার মনিটরিং এ মোবাইল কোর্টের সময় কাল বাড়ানো, দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে অবস্থান করলে অনেকগুলি অনিয়ম সম্পর্কে খোঁজ খবর সহজে পাওয়া যাবে, প্রতিদিন বিভিন্ন বাজার থেকে মাংশ, মাছ, মুরগীর বাজার থেকে ওজনে কম দেবার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, বিএসটিআই অফিসকে দিয়ে প্রতিটি বাজারে ভ্রাম্যমান আকারে ডিজিটাল স্কেলগুলি পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা, মোবাইল কোর্ট চলাকালীন সময়ে দোকানের মালিক দোকানে থাকে না। তখন ম্যাজিস্ট্রেট মালিককে না পেয়ে কর্মচারীকে লগু সাজা দেয়। এ অবস্থায় মালিককে পাওয়া না গেলে দোকান সিলগালা করে দেবার ব্যবস্থা করা, প্রকৃত শাস্তি নিশ্চিত করা, পানির ফ্যাক্টরী গুলিতে অবৈধ ফ্যাক্টরী গুলিতে দেখা যায় সবগুলি আবেদিত, এটি মোবাইল কোর্টকে বোকা বানানোর একটি চক্রান্ত। তাই ৬০ দিনেরও বেশী সময় ধরে আবেদিত প্রতিষ্ঠান গুলির আবেদনগুলি বাতিল করা, সেমাই, নুডুলস, মুড়ি, ঘিসহ নানা খাদ্য আইটেম দেশের রংপুর-বগুড়া থেকে সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে এনে নতুন ভাবে রি-প্যাকিং করে বাজারজাত করে থাকেন। এর কারণে এ সমস্ত আইটেমে নকল-ভেজাল হবার সম্ভাবনা প্রচুর, তাই এই রি-প্যাকিং বন্ধ করার ব্যবস্থা করা, রমজানের সময় বড় বড় মাকের্ট গুলির সামনে অবৈধভাবে পার্কিং গড়ে উঠে এবং এগুলো ইজারা প্রথা চালু হয়। এছাড়াও রমজান উপলক্ষে ফুটপাত গুলিতে অবৈধ খাবারের দোকান গড়ে উঠে। তাই এই পার্কিং পদ্ধতি ও ফুটপাতে খাবারসহ যে কোন দোকান বন্ধ করা হলে যানজট কিছুটা কমবে, টিসিবি বাজারে থাকবে বলে বানিজ্য মন্ত্রী বেশ জোরে সুরে বলে আসলেও টিসিবি উদাও, তারা কোথায় ট্রাক সেল ও ডিলারের মাধ্যমে কোথায় কোথায় পণ্য বিক্রি করছে তার তালিকা সকলকে জানানোর ব্যবস্থা করা। ডিলাররা মাল বিক্রি করছে কিনা তা নজরদারির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা অন্যতম। (বিজ্ঞপ্তি)

Inline
Inline