পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে কর্তৃপক্ষের নেই নজরদারী, বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের নিত্য পণ্য ক্রয় বিক্রয়ে নেই কোন নজরদারী। নেই নিত্য পণ্য তালিকার কোন রেট বোর্ড। সে কারণে গেল মাহে রমজানের পর থেকে ঝিনাইদহ বানিজ্যিক শহর পৌর এলাকায় ৬/৭টি কাঁচা বাজারে সকল প্রকার তরিতরকারি সবজিসহ পেয়াজ রসুন ও কাঁচা ঝালের দাম দফায় দফায় বেড়েই চলেছে। এতে করে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা

রোববার পৌরসভার অধীনে শহরের বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে এবং দোকান ব্যবসায়ীদের সাথে বাজারের মূল্য জানতে চাইলে তারা বলেন, গত এক সপ্তায় সব চেয়ে বেশি দাম বেড়েছে রসুন, কাঁচা ঝালের। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে পিয়াজ নিত্যপণ্য সকল প্রকার সবজির মূল্য। দিনে দিনে বিপাকে পড়েছে দিন মজুর খেটে খাওয়া গরীব মানুষ গুলো। অথচ নিয়ম থাকলেও বাজার তদারকি দায়িত্বরত পৌরসভার কোন ভুমিকাই নেই।

ভুক্তভোগি ক্রেতাদের অভিযোগ ঝিনাইদহ শহরের ‘ট’ বাজার হাটের রাস্তাসহ পাইকারি কাচাঁ বাজারে নানা প্রকার সবজির মূল্য খুচরা দোকানীরা কমে কিনলেও এরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নিজ নিজ দোকানে বসে ক্রেতাদের কাছ থেকে দাম হাকিয়ে নিচ্ছে দ্বিগুনেরও বেশি। এ নিয়ে খুচরা দোকানি ও ক্রেতাদের সাথে মাঝে মধ্যে বাকবিতন্ডা হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাচাঁ ঝাল পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। বর্তমানে কাঁচা ঝাল খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি। আবার রসুনের দাম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা প্রতি কেজি দরে। রসুনের দাম গত ৭ দিনে বেড়েছে ৬০ টাকা কেজিতে। সে তুলনায় পেয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ২৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি পিয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। গত ৭ দিনে পেয়াজের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা। আদা প্রতি কেজি ২৮০ টাকা। বেগুন ৫০ টাকা। মুখি কচু ৬০ টাকা প্রতি কেজি। এভাবে দাম বেড়ে থাকার কারণে বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষসহ দিন মজুর শ্রেণির মানুষ।

হঠাৎ করে প্রতিটি পণ্যের অগ্নিমূল্যের কারণ জানতে কলেজ রোডের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানায়, পিয়াজ, রসুন, কাচাঁঝাল ও আদার সরবরাহ কম হওয়ার কারণে দাম সামান্য বেড়েছে। তবে বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে অতি মুনাফার লোভে ক্রেতাদের নিকট থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

কাচাঁবাজার ব্যবসায়ী সমিতির অভিমত সরকারি ভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ দেখার দায়িত্বে যারা রয়েছে সেই পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন চোখ বন্ধ করে ঘুমাচ্ছে বলে দাবী ব্যবসায়ীদের।

এদিকে মুরগি, গরু, খাশি, মাছের দাম স্বাভাবিক থাকলেও মৌসুমি ফল আম ও কাঠালের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। আর ধাপে ধাপে বাড়ছে দেশি মুরগির দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি মুরগি চারশো টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঝিনাইদহবাসীর দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে যারা রয়েছে তারা নজর দারি বাড়ালে ক্রেতারা উপকৃত হতে পারে।