নেত্রী বারবার ক্ষমা করবেন না: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতর কোনো অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার জন্য নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নাম সহ্য করা হবে না।

শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা ও জনপ্রতিনিধি সম্মেলনে কথা বলছিলেন কাদের।

সভায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত দলীয় চেয়ারম্যান, মহানগরের অধীন সংগঠনের প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় নির্বাচিত কাউন্সিলার এবং জেলা পরিষদের নির্বাচিত দলীয় সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

গত ২৩ জুন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ডেকে নিয়ে বৈঠক করে ক্ষমতাসীন দল। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এই সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি তার তৃণমূলের নেতাদের নানা দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। গণভবনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেদিন ইউনিয়নের নেতাদের ডাকা হয়নি।

আগামী ৭ জুলাই ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও খুলনা বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বিশেষ বর্ধিত সভা করা হবে।

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার আগে বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর জোর দেন।

কাদের বলেন, ‘এ সি আর জমা আছে। ছয় মাস পরপর এ সি আর জমা হচ্ছে জনমতের। তৃণমূল পর্যায়ে যারা এগিয়ে আছে, তারাই পাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।’

দলের শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদ দিয়ে কাদের বলেন, ‘নমিনেশন (মনোনয়ন) পাওয়ার খায়েস থাকতে পারে, সবার অধিকার আছে। কিন্তু নেত্রী বলেছেন, প্রতিযোগিতা হবে, অসুস্থ প্রতিযোগিতা হবে না।’

‘নিজের লোকের বিরুদ্ধে নিজেরা বিষোদগার করবেন এই মনোনয়ন পাওয়ার জন্য, এই প্র্যাকটিস এবার সহ্য করা হবে না।’

‘নেত্রীর উদার মন বঙ্গবন্ধুর মতো। বিশাল হৃদয়, সাগরের মতো গভীরতা। তিনি বারবার ক্ষমা করে দিয়েছেন, কিন্তু আগামী নির্বাচনে আর ক্ষমা হবে না।’

দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যতই প্রভাবশালী হোন, বিদ্রোহ করলে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার। ঐক্যের ফসল আমাদের ঘরে তুলতে হবে।’

‘ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জয়’

গাজীপুরে কীভাবে জয় হলো জানেন? এমন প্রশ্ন রেখে কাদের পরে নিজেই তার জবাব দেন। বলেন, ‘আমাদের নেত্রীর উন্নয়ন অর্জনের রাজনীতির ফসল আমরা ঘরে তুলেছি। এই উন্নয়ন অর্জনের রাজনীতি আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত খুলনা, গাজীপুরের জয়ের ধারা ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।’

আর এই জয় নিশ্চিত করতে হলে দলীয় শৃঙ্খলা জরুরি বলে মনে করেন কাদের। বলেন, ‘যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো শক্তি বাংলাদেশে নেই। যে কোনো নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরা বিজয়ী হবো।’

দলের নেতা-কর্মীদের জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ করারও তাগিদ দেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘উন্নয়নের সাথে আচরণ ম্যাচ করতে হবে। ভালো উন্নয়নের সঙ্গে ভালো আচরণ হলে ব্যাটে বলে সংযোগ হবে, আমরা বিজয়ী হবো।’

চিরকাল বেঁচে থাকবেন দুই জন

বাংলাদেশের দুইজনকে সারা জীবন তাদের অবর্তমানেও মানুষ স্মরণ করবে বলে মনে করেন কাদের। তার মতে এদের একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যজন তার মেয়ে শেখ হাসিনা।

‘আজ আমরা গর্ব করি। বাংলাদেশের গত ৪৩ বছরে সবচেয়ে সাহসী নেতার নাম কী? বাংলাদেশে গত ৪৩ বছরে সবচেয়ে বিচক্ষণ রাজনীতিকের নাম কী? গত ৪৩ বছরে সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসকের নাম কী? বাংলাদেশে গত ৪৩ বছরে সবচেয়ে সফল কূটনীতিকের নাম কী? বাংলাদেশের গত ৪৩ বছরে সবচেয়ে সৎ রাজনীতিবিদের নাম কী?’

বর্ধিত সভায় আসা নেতারা কাদেরের প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেন ‘শেখ হাসিনা’ নামে চিৎকার দিয়ে।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘সততাই আমাদের পুঁজি। সেই সততায় সারা বিশ্বে সেরাদের মধ্যে অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।’