নেত্রকোণায় ২৪ ঘণ্টায় চার শিশু ধর্ষিত

ডেস্ক রিপোর্ট : নেত্রকোণায় ২৪ ঘণ্টায় পৃথক স্থানে চার শিশু ধর্ষিত হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। জেলা শহরের সাতপাই এলাকা, জেলার আটপাড়া, মোহনগঞ্জ ও কলমাকান্দায় এই শিশুগুলো পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়।
এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাতপাই রেলক্রসিং এলাকার রকিবুলের বখাটে ছেলে ইমনের বিরুদ্ধে ১৩ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। গত রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনার সময় শিশুটির আর্ত-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ইমনকে (১৬) হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে আহত শিশুটিকে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাইফুল বারী জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে।
নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের টেংগা গ্রামের মোঃ সঞ্জু মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন (২০) গত রবিবার রাতে প্রতিবেশী ১৩ বছরের এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে।
আটপাড়া থানার ওসি মো. রমিজুল হক জানান, ছাত্রীটির বাবা ও মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামাল উদ্দিন রবিবার রাতে তাদের বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়িতে থাকা ৭০ বছর বয়সী দাদা ও ১০ বছর বয়সী ছোট ভাইসহ ছাত্রীটিকে কৌশলে খাজার (মিষ্টি জাতীয় খাদ্য) সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই অচেতন হয়ে পড়লে জামাল ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে। সোমবার বিকাল তিনটার দিকে পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই ভিকটিমকে উদ্ধার করে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করা হয়। পরে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সোমবার বিকাল চারটার দিকে পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরে করা হয়েছে।
অপরদিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার দেওতান গ্রামে গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে।
এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জের দেওতান গ্রামে আট বছরের শিশুকে বাড়িতে রেখে মা মোহনগঞ্জ গেলে তারই প্রতিবেশী মহব্বত আলীর ছেলে লিমন মিয়া (১৮) ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির মা বাড়িতে এসে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষককে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী লেংগুড়া ইউনিয়নের জিগাতলা গ্রামে পাঁচ সন্তানের জনক দ্বারা তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩) ধর্ষিত হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।
পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিগাতলা গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীটি গত রবিবার রাতে তার নিজ ঘরে দাদির সাথে ঘুমাচ্ছিল। প্রতিবেশী মৃত আবেদ আলীর ছেলে পাঁচ সন্তানের জনক মো. আব্দুস সালাম কৌশলে ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষিতার পিতা ওই রাতেই কলমাকান্দা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ধর্ষক সালামকে আটক করে।
অভিযুক্ত সালামের পরিবারের দাবি, শিশুটির বাবার সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবু বকর ছিদ্দিক ধর্ষণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে থানায় ছালামের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। ইতোমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর ধর্ষককে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।