‘নেতিবাচক প্রচার ও মন্ত্রীর বক্তব্যে পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী’

নিজস্ব প্রতিবেদক ; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নেতিবাচক প্রচার ও মন্ত্রীর দুর্বল বক্তব্য পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ নামে একটি সংগঠন। রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনের দারুস সালাম আর্কেডের মিলনায়তনে পেঁয়াজের বাজার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন নিয়ে এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করা হয়।

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, পেঁয়াজের বর্তমান বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ফেসবুকে নেতিবাচক প্রচার ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দুর্বল বক্তব্য। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘আপাতত পেঁয়াজের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। মাস খানেক বাদে ৮০ টাকার মধ্যে পেঁয়াজের দাম আসবে।’ অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হচ্ছে ‘এক হালি পেঁয়াজের দাম ৩৫-৪০ টাকা।’ এসব সংবাদ বাজারকে অস্থির করে তুলছে।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, মন্ত্রী যদি ভারতের বর্তমান পেঁয়াজের বাজার চিত্র সর্বনিম্ন ১০-২৫ রুপি বিক্রয়ের সংবাদ ও কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে বলতেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের পেঁয়াজ বাজারে প্রবেশ করবে এবং পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকার মধ্যে নেমে আসবে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।

তিনি আরও বলেন, নেতিবাচক সংবাদের সুফল নিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু কালোবাজারি। আমরা বাজার পরিদর্শনে লক্ষ্য করেছি, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশি পেঁয়াজ মজুত আছে। আমাদের নতুন পেঁয়াজ উঠতে এক মাস সময় লাগবে। তবে কাঁচা পেয়াজ উঠতে সময় লাগবে এক সপ্তাহ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজারের মজুত ও চাহিদা সম্পর্কে কোনো সার্ভে এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করিনি।

টিসিবির মাধ্যমে লোক দেখানো পেঁয়াজ বিক্রির অন্তরালে টিসিবির ডিলারদের অতি মুনাফার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাভাবিকভাবে যদি লক্ষ্য করা যায় একটি ট্রাকের ভাড়া ও চারজন শ্রমিকের পারিশ্রমিক ওঠাতে যে পরিমাণ পণ্য বিক্রয়ের প্রয়োজন তার চার ভাগের এক ভাগও ট্রাকে বিক্রি করা হয় না। অর্থাৎ অতি মুনাফার জন্য বেশির ভাগ পণ্য খোলাবাজারে দোকানে বিক্রি করা হয়। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করব, দ্রুত পেঁয়াজ আমদানি করে পেঁয়াজের বাজারে স্থিতিশীলতা আনা হোক।

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সবুজ আন্দোলনের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার, সাধারণ নাগরিক সমাজের কেন্দ্রীয় সদস্য আশুতোষ দাশ দেওয়ান, সাইফুদ্দিন টুলু, প্রকৌশলী সুজন বিশ্বাস, ওমর ফারুক খান ফাহিম, সবুজ আন্দোলনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।