নুসরাতকে নিয়ে ডাকসু কর্মসূচি না দেয়ায় ব্যথিত তোফায়েল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : ফেনীর সোনাগাজী মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচির আয়োজন না করায় ব্যথিত হয়েছেন সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু এটা নিয়ে আমি ডাকসুর কোনো নেতাকে আন্দোলন করতে দেখিনি। তোমাদের এ আচরণ আমাকে ব্যথিত করেছে এবং আহত করেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে সোমবার এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তোফায়েল আহমেদ। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ব্যানারে ভিপি নুরুল হক নূর এবং ফেনী জেলা সংগঠনের ব্যানারে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। সার্বিকভাবে কোনো কর্মসূচি দেয়নি ডাকসু।

ডাকসু ও হল সংসদে প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘অভিজ্ঞতা শুনি সমৃদ্ধ হই’ শিরোনামে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসুর সাবেক জিএস ড. মোশতাক হোসেন। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ২৫ জন সদস্য ও হল সংসদের নির্বাচিত ২৩৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

ডাকসু ও হল সংসদের ভিপি, জিএস এবং এজিএসদের উদ্দেশে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মনে রাখবে তোমরা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি না বরং দেশের সব শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবে।’

এ সময় হল থেকে অছাত্র বের করে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার যখন ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে হল ছেড়ে দেই। আমার ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর আমি একদিনও হলে থাকিনি। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন হলে থাকা সব অছাত্র বের করে দেয়।’

তোফায়েল আহমেদ ডাকসুর ভিপি থাকাকালীন বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘সে সময় শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের অনেক ভালো সম্পর্ক ছিল। আমরা শিক্ষকদের খুব শ্রদ্ধা করতাম এবং তারাও আমাদের স্নেহ করতেন।’