নির্বাচনের প্রভাব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রক্রিয়ায় পড়বে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘আনা ফ্রাংক- এ হিস্ট্রি ফর টুডে’ শীর্ষক এক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কোনোভাবেই ব্যাহত হবে না। নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয়ে ঠিকভাবে শেষ হবে এ প্রক্রিয়া।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রপের ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চুক্তি অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি সোমবার থেকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় শিবিরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রতিদিন তিনশ থেকে পাঁচশ জনকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। এই চুক্তি অনুসারে প্রত্যাবাসন শুরুর দুই বছরের মধ্যে তা শেষ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি এ বছরের সবচেয়ে বড় সাফল্য। তাই এই সাফল্য কোনোভাবেই ভেস্তে যাবে না।’

মাহমুদ আলী বলেন, ‘গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন শুরু হলে সেখান থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। সবমিলিয়ে এখন এ দেশে আশ্রিত জনগোষ্ঠীটির সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। এই রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্প্রতি সমঝোতায় পৌঁছেছে মিয়ানমার সরকার।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি অবশ্য ২৩শে জানুয়ারির পূর্ব নির্ধারিত ডেটলাইনের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘২৩শে জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়া উচিত (ফ্রাস্ট লট সোড বি গয়িং)। তবে তাতে সপ্তাহ বা দু’একদিন এদিক-ওদিক হতে পারে। তবে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে প্রত্যাবাসন না হলেও ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এটি শুরু হবে।

গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা।