নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এসব সফরে আগামী জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধানের বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।আন্তর্জাতিক এই তৎপরতায় চলতি সেপ্টেম্বর ও আগামী অক্টোবর মাস ব্যস্ত সময় যাবে আওয়ামী লীগের নেতাদের।আসছে ১৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সরকারের মেয়াদে এটাই সর্বশেষ অধিবেশন হতে পারে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করবে। এ ছাড়া চলতি মাসের ২১ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করার কথা রয়েছে।আগামী অক্টোবর মাসে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফর করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশাপশি এ সফরে রাজনৈতিক বিষয় ছাড়াও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়েও আলোচনা হবে। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।আওয়ামী লীগের এসব প্রতিনিধিদলের বিভিন্ন দেশ সফরকালে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রোহিঙ্গা ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে বলে জানায় দলটির একাধিক সূত্র।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের আগে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোহিঙ্গা ইস্যু। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার চাপ সৃষ্টি করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। যেহেতু আমরা ক্ষমতায় আছি, তাই আমাদের এসব সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুও গুরুত্ব পাবে। কারণ মিয়নমারের প্রতিবেশী বড় দুটি দেশ হলো চীন ও ভারত। তাই এ দুটি দেশের কাছে রোহিঙ্গাদের কারণে আমরা যে সমস্যা পড়েছি তা তুলে ধরব।রবিবার পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেখানকার নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, হত্যা, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া—এসব চিত্র জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ সভায় বাংলাদেশ তুলে ধরবে।চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর বেইজিং যাচ্ছে। ১৯ সদস্যের দলটি সেখানে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করবে।আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান। প্রতিনিধিদলে আরও থাকছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শামসুর নাহার চাঁপা, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার, পারভীন জাহান কল্পনা, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার, মেরিন জাহান, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, উপাধ্যক্ষ রেমণ্ড আরেং ও সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত।আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির একটি প্রতিনিধিদল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি দুই দলের সম্পর্কোন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, সব দেশের কাছেই বাংলাদেশের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। সে হিসেবেই বিভিন্ন দেশ বা সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। এরই ধারাবাহিক অংশ হিসেবে চীন ও ভারত সফর।তিনি বলেন, এই সফরগুলোর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়েই বিশ্বের বাংলাদেশের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যায়। বাংলাদেশ দ্রুততম সময়ের নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে। গোটা বিশ্ববাসী আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেভাবে এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। সেই দেশের প্রতি বিভিন্ন দেশের আগ্রহ থাকাই স্বাভাবিক।এ সফরগুলোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক যে ভালো আছে সফরগুলো তারই প্রমাণ। নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলোচনা কেন করব?রোহিঙ্গা বিষয়টি আলোচনায় আসবে জানিয়ে শাম্মী আহমেদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে যেহেতু বাংলাদেশ ভিকটিম, সেহেতু আমরা বিশ্বনেতাদের মাধ্যমে এর একটা সমাধান চাইব। কীভাবে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা করব।চীন সফর সম্পর্কে প্রতিনিধিদলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে আমরা সেখানে যাচ্ছি। এ সফরে আমাদের দুই দলের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। তবে দুই দেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সবার আগে আলোচনা হবে। চীনের বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়েও কথা হবে।চীন সফরে রোহিঙ্গা বিষয়টিও স্থান পাবে বলে জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, চীন সফরের তী আলোচনা হবে সেটি এখনই একেবারে চূড়ান্ত হয়নি, তবে রোহিঙ্গা বিষয়টি আলোচনায় থাকবে এটা নিশ্চিত।