নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়তে সন্ত্রাস সমূলে উৎপাটন করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ২৯ মার্চ, ২০১৮ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার উন্নত সমৃদ্ধ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় এতদঞ্চলের সকল প্রকার সন্ত্রাস সমূলে নির্মূল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে আমাদের সকল প্রকার সন্ত্রাস সমূলে উৎপাটন করতে হবে। রাতে বিমসটেক (বিআইএমএসটিইসি) রাষ্ট্রগুলোর ন্যাশনাল সিকিউরিটি চিফদের সঙ্গে তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।
বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল এন্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক)-এর জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানেরা সহযোগী ৭টি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করতে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
এ ধরনের এটি দ্বিতীয় বৈঠক যেটি আজ রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম বৈঠকটি এক বছর আগে নয়া দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিমসটেকভুক্ত দেশগুলো এ অঞ্চলের সন্ত্রাস উচ্ছেদে পারষ্পরিক সহযোগিতাকে আরো জোরদার করবে। তিনি বলেন, মাদকাশক্তি, মানব পাচার, সাইবার অপরাধ, সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত হুমকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এ অঞ্চলের সকল দেশগুলোর জন্য একই ধরনের চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পদ্ধতি আমাদের উদ্ভাবন করে সমন্বিতভাবে এর সমাধানে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ প্রশ্নে তাঁর সরকারের জিরো টলারোন্স নীতির পুনরোল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাস এবং উগ্র চরমপন্থার বিরুদ্ধে তরুণ সম্প্রদায়, পরিবার-পরিজন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের ভূখন্ডকে কোনভাবেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য কাউকেই ব্যবহার করতে না দেয়ায় তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
দারিদ্র্যই এই অঞ্চলের উন্নয়নের সাধারণ শত্রু আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী এই দারিদ্র্য বিমোচনে সকলের সমন্বিত প্রয়াস প্রত্যাশা করেন। প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সমস্যা দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে বহুপাক্ষিকভাবেও এগুলোর সমাধান হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এর সদস্য দেশগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বিমসটেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গভীর করার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আমরা এ প্রক্রিয়া জোরদার করতে অত্যন্ত তৎপর।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।
বিমসটেক সফলভাবে এর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন যে, এই আঞ্চলিক সংস্থাটিকে অধিকতর ফলপ্রসূ করে তুলতে আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা সহযোগিতার কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুস্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘এসব চুক্তি এ অঞ্চলে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনগণের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসী হামলার হুমকির মুখে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া অরক্ষিত ও অনিরাপদ অবস্থায় রাখতে পারি না।’
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো জোরদার করতে বাংলাদেশসহ বিমসটেক সদস্য দেশগুলো ২০১৮ সালে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকসহ বেশকিছু কর্মসূচি আয়োজন করবে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘এই আঞ্চলিক সংস্থাটিকে একটি গতিশীল প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে আমাদের প্রয়াস আরো জোরদার করতে হবে।’
প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিমসটেক সদস্য দেশগুলো জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের মাধ্যমে তাদের দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে তাঁর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের দ্বিতীয় বৈঠকের বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
বিমসটেক মহাসচিব শহিদুল ইসলাম, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোবাল, তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মিয়ানমারের থাং তুন, নেপালের রাষ্ট্রদূত চপ লাল ভুসাল, শ্রীলংকার বিগ্রেডিয়ার এইচকেএসিআর কোদি ফুয়াক্কুল ও থাইল্যান্ডের চালিদা চোচাই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।